আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

অবরোধ তুলতে বলায় পাব্লিককে চড় মারলেন সিপিএম নেতা

Current India Features Politics

জনস্বার্থে পথ অবরোধ। প্রতিবাদ করায় উল্টে জনগণের গালেই চড়! ভারত বনধের দিনে দুর্গাপুরে এমন ঘটনাই ঘটল।

কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে সিপিএম সহ বাম সংগঠনগুলো সোমবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছিল।
দুর্গাপুরে এক পথারোহী বাইক নিয়ে নিয়ে অবরোধে আটকে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করায় সিপিএম নেতার হাতেই আক্রান্ত হন। শুধু তাই নয় অবরোধের বিরোধিতা করেছেন বলে ক্ষমাও চাইতে হয় ওই পথচারীকেই!

প্রসঙ্গত কৃষক বিরোধী আইনের প্রতিবাদে বাম সংগঠন ছাড়াও এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস এবং স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও আন্দোলনে কৃষক পক্ষ অবলম্বন করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বনধ’-এর রাজনীতি সমর্থন করেননা।


জনসাধারণ ‘বনধ’ সমর্থন করেন কি?

প্রশ্নটা শুধু আজ নয়, বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ করে আসছেন। এদিন দুর্গাপুরের ঘটনাই আরও একবার প্রশ্নটা খুঁচিয়ে তুলল।

দুর্গাপুর স্টেশনের কাছে বাঁকুড়া মোড়ে বনধ সমর্থনে পথ অবরোধ করেছিলেন বাম কর্মী সমর্থক ও নেতারা। স্বভাবতই গাড়ি চলাচল ব্যাহত হওয়ার অসুবিধার সম্মুখীন হন বহু পথযাত্রী। তাদেরই মধ্যে একজন বাইক আরোহী অসুবিধার কথা জানিয়ে অবরোধ তুলতে অনুরোধ করেন। এক কথা দুকথায় বিবাদ বাড়ে। তারই মধ্যে সিপিএমের এক নেতা এসে বাইক আরোহীর গালে সপাটে থাপ্পর মেরে বসেন।


ঘটনাটি ঘটিয়েছেন সিপিআইএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার।
এমন ঘটনা জনসমক্ষে ঘটিয়ে দুঃখিত হওয়া তো দূর, উল্টে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য ,”বনধ আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। হঠাৎ করে ডাকা হয়নি। কোথায় অবরোধ হবে সেটাও ঘোষিত ছিল। ফলে যারা রাস্তায় আটকে গেছেন তাদেরই সহনশীলতা দেখানো উচিত”।


সিপিএমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতার এই ভাষণে ‘জনসাধারণ’ উপলব্ধি করেন — যেহেতু বনধ – অবরোধ ঘোষিত ছিল তাই পথে বার হওয়া, হলেও ধৈর্য না রাখতে পারা তাদেরই ভুল। তাই বাধ্য হয়ে ওই বাইক আরোহীকে উল্টে ক্ষমা চাইতে হয়।

কৃষি আন্দোলনের সপক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গোড়া থেকেই তিনি বলেছিলেন। এই মারমুখী সিপিআইএম নেতা তাতেও সন্দেহ প্রকাশ করে কটু মন্তব্য করেছিলেন। যার উত্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়,”আমাদের নেত্রী শুরু থেকেই কৃষকদের পাশে রয়েছেন। যিনি সন্দেহ প্রকাশ করে অমন আলটপকা মন্তব্য করেছেন এটা তাঁর বিকৃত মস্তিষ্কের লক্ষণ”।
এদিনের ঘটনার পর সম্ভবত বাম শিবিরও এই জেলা নেতৃত্বের মস্তিষ্কের লক্ষণ নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠবেন — এমনটাই অনুমান করা যায়।