IMG_20211216_114613

রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে গোয়া সফরে গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুদিনের গোয়া সফরকালে পাঞ্জিম, বেনউলিম, আসানোরায় বেশ কয়েকটি জনসভা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাই নিয়েই বিদ্রুপে বিদ্ধ করছে বিজেপি। প্রত্যুত্তরে মমতাও নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুঁড়লেন, “একজন গুজরাটি সারা দেশ ঘুরে বেড়াতে পারলে বাঙালি পারবেনা কেন?”


২০২২-এ গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছে তৃণমূল। তাকেই লক্ষ্য করে গোয়ার মানুষের সাথে জনসংযোগ সারছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। মমতার এই গোয়া সফরকে তুমুল কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বুধবার এক সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “গোয়ায় ওটা সফর তো নয়, আস্ত ঘোড়ার ডিম। এর আগে ত্রিপুরা নিয়ে পড়েছিল। এখন গোয়ায় শুরু হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র প্রচার করলেই জেতে যায়না।”

মমতার মুখের হিন্দি ভাষা নিয়েও ব্যঙ্গ করতে ছাড়েননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বলেছেন, “উনি যা হিন্দি বলেন! ওই হিন্দি দিয়ে চন্ডীপাঠ করে চন্ডীর পিন্ডি চটকেছেন। কে শুনবে এমন হিন্দি? ”


তবে বিজেপির কটাক্ষ উপেক্ষা করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পরিস্কার বলেছেন, “গোয়ায় জোট করেছি, ভয় পেয়েছে বিজেপি। গোয়ার ভোটেই বিজেপির দাদাগিরি শেষ করতে হবে। বিজেপি ধর্মের সার্টিফিকেট দেবে আমাদের? বিজেপির থেকে সার্টিফিকেট নেবনা।”

এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই কাশী বিশ্বনাথে প্রধানমন্ত্রীর গঙ্গাস্নান দিয়ে কটাক্ষ ছোঁড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লখিমপুরের কৃষক মৃত্যু নিয়েও সোচ্চার হন। গোয়ার রাজনৈতিক মহলের উদ্দেশ্যে মমতার বার্তা, “ভোট ভাগাভাগি করবেননা। জোট বাঁধুন। বিজেপিকে হারাতে গেলে জোট বাঁধতেই হবে। যারা বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিল তারা বুঝেছে বিজেপি কত ভয়ংকর।”

কংগ্রেসের অবস্থান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “কংগ্রেস শুধু বড় বড় কথা বলে। আগে বিজেপির সঙ্গে লড়াই করে দেখাক। তারপর বুঝব।”


এরপরই তাঁর গোয়া সফর নিয়ে বিজপির ব্যঙ্গের জবাব দিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি বারবার বলে আমি কেন গোয়ায় আসছি! প্রধানমন্ত্রীও তো গুজরাটি। একজন গুজরাটি যদি সারাদেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন, একজন বাঙালি যেতে পারবেনা ? একজন বাঙালি যদি জাতীয় সঙ্গীত লিখতে পারেন, তাহলে একজন বাঙালি গোয়ায় আসতে পারবেনা কেন?”

বাঙালির রবীন্দ্রনাথ জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা। গোয়ায় দাঁড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গ এনেই তুলনা তুলে ধরেন। শুধু রবীন্দ্রনাথ নয়, গান্ধীজিকেও উদাহরণ হিসেবে এনেছেন। মমতা বলেছেন,”গান্ধীজিকে আমরা নেতা বলে মানি। কখনও কি ভেবেছি তিনি বাঙালি নাকি অবাঙালি, গোয়ার নাকি উত্তরপ্রদেশের? দেশের নেতা তাঁকেই বলে যিনি সবাইকে নিয়ে চলতে পারেন।”
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে আরো একবার সার্বিক সমন্বয়ের বার্তাই উঠে এল।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com