1631371469_kabul-student

তালিবানরা আফগান দখলের পর মহিলাদের স্বাধীনতা নিয়ে যখন সকলেই সরব, যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠছে নারীর শিক্ষা, চাকরির অধিকার ভঙ্গ নিয়ে, দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন সে দেশের প্রথম মহিলা পাইলট থেকে শুরু করে সাহসী মহিলা সাংবাদিক, ঠিক তখনই আফগানিস্তানের কিছু মহিলাদের গলায় হঠাৎ অন্য সুর শোনা গেল।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু মহিলা জমায়েত করে রীতিমতো তালিবানদের সমর্থনেই গলা খুললেন। সবারই পরনে ছিল বোরখা, নিকাব। তালিবানদের মহিলা নীতিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে তাদের মধ্যে অনেকেই বললেন,”তালিবানদের প্রচলিত রীতি মেনেই মহিলারা সবক্ষেত্রে কাজ করতে পারবে”। তাদের কন্ঠস্বরে এমনও শোনা গেল,”হিজাব পরলেই মহিলারা সুরক্ষিত থাকবে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে সমর্থন করবো আমরা”।


বরং আগের সরকারকেই বিরুদ্ধ সমালোচনা করে তারা বলেন, ওরা মেয়েদের রূপ দেখে কাজে বহাল করত, ইচ্ছেমতো ‘খারাপ’ কাজে ব্যবহার করত। ‘খারাপ ‘ বলতে তারা কী বোঝাতে চান, সেটা যদিও পরিস্কার নয় তবে যারা তালিবানদের বিরোধীতা করেছেন, সেইসব মেয়েরা যে এদের চোখে খারাপ তাতে সন্দেহ নেই।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাবুল , হেরাট প্রভৃতি জায়গায় মহিলাদের প্রতিবাদ শুরু করে অনেক মহিলা এমনকি মিছিল পর্যন্ত বার করেন। প্রকাশ্য ভিডিওয় সেই বিরোধ দমনের হিংসাত্মক ছবিও ধরা আছে। মহিলাদের বন্দুকের বাঁট দিয়ে পেটানো, এমনকি গুলি ছুঁড়তেও পিছপা হয়নি তালিবানরা।


এদিনের কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশে যোগ দেওয়া মেয়েরা সম্ভবত ওইসব বিরোধী মহিলাদেরই ‘খারাপ ‘ বলে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন শুধু নয়, তাদের বিরুদ্ধে ধিক্কার দিয়ে বলেছেন ,”যারাঁ তালিবানের বিরোধীতা করতে রাস্তায় নেমেছেন তাঁরা কখনোই নারীদের প্রতিনিধি নয়। যারা হিজাব পরতে অস্বীকার করছেন, তারা মেয়েদেরই ক্ষতি করতে চাইছেন “!

কেন এই উল্টো সুর? এবং কাদের সুর? মালালা ইউসুফজাই থেকে শুরু করে নিহত সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় (এসকেপ ফ্রম তালিবান) , এই সময়ের বেহেস্তা আরঘান্দ যে নামই করা হোক — এদের লড়াকু প্রতিবাদের জীবনকাহিনীতেই কিছু উল্টো নাম হয়তো খুঁজলে পাওয়া যাবেই, যারা কায়েমি প্রভুত্বকেই মেনে আসছেন বরাবর।


কাবুলের সমাবেশে তালিবান সমর্থনে চিৎকার করা মেয়েরা কি পরোক্ষে তারাই? প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক মহলকে ইতিমধ্যেই ভাবাচ্ছে। আর এই সন্দেহটা হচ্ছে বলেই নজরে পড়েছে আরও একটা বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশে যোগ দেওয়া এই মেয়েরা কি আদৌ পড়ুয়া ছিলেন সবাই!

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে ওখানে অংশগ্রহণ করা মেয়েদের অনেকের কোলে তাঁরা বাচ্চা লক্ষ্য করেছেন। কয়েকবার শিশুর কান্নার শব্দও শোনা গেছে। যে সমস্ত অল্পবয়সী মেয়েরা ছিল তাদের অনেককেই শিক্ষার্থী বলে মনে হয়না।


তাহলে কাদের প্রতিনিধিত্ব করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে মতামত চাপিয়ে দিচ্ছিলেন ওই মহিলারা? এখানেই শেষ হত, কিন্তু তা হয়নি। কেননা আরও বড় চমক।
ক্যামেরায় আচমকাই ধরা পড়ে গেছে একটি ছবি। সেই ছবিতে অসাবধানে বোরখার আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে ফেলেছে একটি পুরুষের মুখ। মহিলাদের সমাবেশ বোরখার আড়ালে কী করছিল ওই পুরুষ?


সংখ্যা বাড়াচ্ছিল কি!

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com