আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

blind couple

চোখের আলোর বদলে অন্তরের আলো দিয়ে আলো জ্বালাচ্ছেন দম্পত্তি

Current India Features

‘চেখের আলোয়  আলোয় দেখে ছিলাম চোখের বাহিরেঅন্তরে আজ দেখব যখন আলোক নাহি রে’ রবি ঠাকুরের এই গানটি এবার সত‍্যি করে দিলেন অন্ধ দম্পত্তি।অন্তরে আলো দিয়ে একে অপরের মনে আলো জ্বেলে ছিল।সেখান থেকে পরিণয়। মনের জোরই হল আসল ।চোখে না দেখেও শুধু মনের জোরে সব প্রতিবন্ধকতাকে ছোট থেকে হার মানিয়ে পেশায় শিক্ষক হয়েছেন।শুধু অন্তরের আলো, শিক্ষার আলো,জ্ঞানের আলো দিয়ে আলোকিত করে যাচ্ছেন হুগলির চুঁচুড়ার শিক্ষক অমিত দে ও তাঁর স্ত্রী শাহিনা খাতুন।


চুঁচুড়ার বাবুগঞ্জের নিবাসী অমিত জন্মান্ধ। ছোটবেলাতেই বেহালার ব্লাইন্ড স্কুলেভর্তি হয়েছিলেন।হস্টেলে থেকে তাঁর পঠনপাঠন করতেন।পড়াশুনায় মেধাবী ছোট থেকেই। মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়।উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করার পর হঠাৎ  তাঁর বাবা মারা যান ।মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া। ভাগ‍্য যে তাঁর পরীক্ষা নিয়েছে জন্ম থেকেই।অদম‍্য ইচ্ছাশক্তির জোরে  পড়াশোনায় ছেদ পড়েনি।শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে শুধু মনের জোরে কাজ করেছেন জুতোর দোকানে। কখনও আবার বেসরকারি সংস্থায় কাজ খুঁজে নিয়েছেন। কোন কাজ ছোট মনে না করে ট্রেনে বাসে ও হকারিও করেছেন। এর মধ‍্যেই পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছেন।

তিনি নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্ৰী ও নিয়ে নেন এর মধ‍্যে।  এরপর ২০১১ সালে আমিত পাণ্ডুয়ার গোপালনগর প্রাথমিক স্কুলে চাকরি ও পান।তাঁর  স্ত্রী শাহিনা ও তাঁর  মতোই জন্মান্ধ। দুজনের পরিচয় হয়েছিল বেহালার ব্লাইন্ড স্কুলে পড়ার সময় থেকে।সেই ছিল অমিত শাহিনার সম্পর্কের সূত্রপাত।কথা বলতে গিয়ে তাঁরা তাদের স্মৃতির সরণি বেয়ে পুরনো দিনে চলে গেয়ে বললেন যে তাঁরা একই বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলে পড়াশোনা করতেন।

সেখানেই তাঁদের  দুজনের পরিচয় হয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের  প্রেম। তবে তাঁদের দুজনের সিদ্ধান্ত ছিল দুজনে তাঁরা নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে করবেন না।বর্তমানে শাহিদা নৈহাটির মহেন্দ্র প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা।করোনা আবহের আগে নিয়মি তাঁরা ট্রেনে করেই রোজ স্কুলে যেতেন।করোনাকালে অভ্যাসের বদল ঘটেছে।  এখন যুগের সঙ্গে নিজেদের বদলাচ্ছেন। ব্রেইল লিপিতে লেখা বইয়ের মাধ্যম  ছাত্রদের পড়াতেন  শিক্ষক দম্পতি। এখন অনলাইনে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তাঁদের পড়াচ্ছেন।এই অনলাইনের পড়ানোর প্রতিবন্ধকতাও জয় করেছেন অমিত শাহিনা। অমিত  বললেন কি ভাবে অনলাইনে ছাত্রছাত্রী পড়ান তারা।

প্রথমে এক জন রিডারকে দিয়ে প্রশ্ন লিখিয়ে নেয়।এরপর ফোনে ছবি তুলে ছাত্রছাত্রীদের পাঠিয়ে দেয়।শেষে উত্তরপত্রগুলি সংগ্রহ করে রিডারকে দিয়ে দেখিয়ে নম্বর  দেয়। এই পদ্ধতিতে তাঁরা ভালো ভাবেই লকডাউনে স্কুলের পড়াশোনা করাচ্ছে। বর্তমানে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যবহারও শিখেছে তাঁরা। অমিত আরও জানান যে তাঁর সহকর্মীরা তাদের  সাহায্য করেছেন করছেন ও পাশে আছেন।সকলেই তাঁদের সম্মান দেয় ও সাহায‍্য করেন। যাঁরা নিজেরাই দেখতে পায় তা তারা তাঁদের মনের  আলো দিয়ে  শিক্ষার আলো দিয়ে হাজার ছাত্রছাত্রীক শিক্ষার আলোয় ভবিষ‍্যত আলোকিত করছেন।এই সকল মানুষদের জন‍্য স‍্যালুট