আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

তৃণমূল বিধায়কের ছবি দিয়ে বিজেপির ভোট প্রচার!

Uncategorized

শুনতে আশ্চর্য লাগলেও খড়দা উপনির্বাচন কেন্দ্রে এমন অদ্ভুত কান্ডই ঘটল। মৃত তৃণমূল বিধায়কের ছবি ব্যবহার করে নিজের প্রচার চালাতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি প্রার্থী জয় সাহা।

প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক কাজল সিংহ


গত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগণার খড়দা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কাজল সিংহ। ঠিক তার কিছুদিনের মধ্যেই বিধায়কের মৃত্যু হয়। তাই নিয়ম অনুযায়ী খড়দায় উপনির্বাচন সংঘটিত হতে চলেছে।


বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান হাওয়া কোথা থেকে যে কোনদিকে ঘোরে বোঝা দায়। যেমন এই আসন্ন উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বিজেপির তরুন মুখ কাজল সাহা আগেভাগেই একটি বিতর্কিত কান্ড ঘটিয়ে বসলেন।


লক্ষীপূজোর দিন নিজের সাথে প্রয়াত তৃণমূল বিধায়ক কাজল সিংহের একটি ছবি সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করে জয় সাহা লেখেন, “প্রয়াত বিধায়ক কাজল সিংহকে আমি আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রণাম জানাই। আমি এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে বিশ্বাস করি যেখানে সব রাজনৈতিক দল ভোটের ময়দানে লড়াই করবে, তারপর মানুষের জন্য একসাথে কাজ করবে”।


বিজেপির তরুন প্রার্থী জয় সাহা এই পোস্টে যতই নিজেদের স্বচ্ছ এক ইমেজ তৈরি করতে ‘সবে মিলে করি কাজ’ মার্কা হাবভাব দেখান না কেন, তাঁর এই কাজে বেজায় রুষ্ট প্রয়াত বিধায়কের স্ত্রী নন্দিতা সিংহ। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, “এটা বিজেপি প্রার্থীর নোংরামি ছাড়া কিছুই নয়। বিজেপি দল তো এই ধরনের নোংরামি করে এসেছে। এখন আর নরেন্দ্র মোদীর নামে ভোট পাওয়া যাবেনা, তাই আমার স্বামীর ছবি ব্যবহার করে খড়দহে ভোট পেতে চাইছে”।

প্রয়াত কাজল সিংহের বাড়িতে জয় বিজেপি প্রার্থী জয় সাহা


বিজেপি প্রার্থী জয় সাহার এই কাজকে বাঁকা নজরেই দেখছে স্থানীয় তৃণমূল শিবির। যদিও প্রার্থী নিজে বলেছেন, “কাজল সিংহ খড়দহের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রয়াত তৃণমূল বিধায়কের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক সৌজন্য জানিয়েই পোস্ট করেছি। আমার মনে হয়না আমি কোনও ভুল কাজ করেছি”।


তরুন নেতা জয় সাহা হয়তো সত্যিই রাজনৈতিক সৌজন্য দেখাতেই চেয়েছেন, যে ধরনের সৌজন্য রাজনৈতিক আবহাওয়ায় ঠিক প্রচলিত নয়। ‘উল্টো বুঝলি রাম’ হলেও তাঁর করার কিছু নেই। কেননা তাঁর দল বিজেপি সম্ভবত প্রবল অস্বস্তির মধ্যে পড়েই মুখে কুলুপ এঁটেছে।

প্রয়াত বিধায়কের বাড়ি গিয়ে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো, তাঁর স্ত্রীর আশীর্বাদ নেওয়া পর্যন্ত ঠিক ছিল, তাই বলে প্রকাশ্য প্রচারে জয়ধ্বনি দিয়ে একসাথে ছবি পোস্ট?
এতটা সৌজন্য দেখাতে কোনো দলই যে অভ্যস্ত নয়! এটাকে তাই একটু বাড়াবাড়িই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।