IMG_20211115_235205

বন্যাত্রান সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় এবার বড় সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। CAG (Comptroller and Auditor General)-কে রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের আদেশ দিল হাইকোর্ট।


২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেসময়ে ত্রাণ বন্টনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণের টাকাও এসেছিল। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রত্যেককে ৭০,০০০ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করলেও, বরাদ্দ টাকা বেশিরভাগ পরিবারই পাননি, এমনই অভিযোগ উঠেছিল। দুর্গতদের বদলে সেই টাকার বেশিরভাগ অংশই কারচুপির মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি একেক অ্যাকাউন্টে বারবার ক্ষতিপূরণের টাকা ঢুকেছে এমন দাবিও ওঠে। এই মর্মে হাইকোর্টে মামলা উঠলে রাজ্যসরকারের টনক নড়ে।

সেইসময় রাজ্য সরকারকে অন্তর্বর্তী তদন্তের নির্দেশ দিলেও, সেই তদন্তের রিপোর্ট সন্তুষ্ট করতে পারেনি আাদালতকে। আগস্ট মাসে ওই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল বলেন, “এই রিপোর্ট আদালত ও জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা মাত্র”। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়নি কেন?” পুনরায় স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি।


এবার দ্বিতীয় দফাতেও এই মামলার সুরাহা হয়নি। এবারের বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ সমস্ত তদন্তের ভার দিলেন CAG-কে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় তদন্তভিত্তিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার আদেশ দিল হাইকোর্ট; একইসঙ্গে রাজ্যসরকারকে সমস্ত টাকার প্রাপ্তি ও বিলিবন্টন সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে CAG-কে তদন্তে সমস্তরকম সাহায্যের নির্দেশও দেওয়া হল। এতদিন পরেও স্বচ্ছ তথ্য না দিতে পারায়, হাইকোর্টের এই নির্দেশে স্বাভাবিক ভাবেই চাপের মুখে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার। এবার ত্রাণ দুর্নীতি মামলা CAG সংস্থার হাতে কোনদিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com