কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

ত্রিপুরায় প্রবলভাবে আক্রান্ত মুসলিম সম্প্রদায়, বাতিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব : দেরিতে হলেও তথ্যপ্রকাশ

Current India Features International Politics

ঠিক যেন সিকির এপিঠ-ওপিঠ। বাংলাদেশে যেমন করে হিন্দু মূর্তির পায়ে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ‘কোরান’ রাখা হয়, তেমন করেই গুজব রটে যায় –উনকোটিতে এক দেবতার মূর্তি পাহাড়ের ওপর ফেলে রেখে আসা হয়েছে। ব্যস, আগুন জ্বলে উঠতে কতক্ষণ! এভাবেই মাথাচাড়া দেয় ‘হিন্দু-মুসলিম ধর্মীয় মৌলবাদী’ হিংসাত্মক শক্তি। সেই এক পথ ধরেই বাংলাদেশ হিংসার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল ত্রিপুরায়। ২০ ও ২১ অক্টোবরের দিন-রাত জুড়ে চলা তান্ডবের শিকার হল ত্রিপুরার মুসলিম সম্প্রদায়।


এখানে উল্লেখ্য, ত্রিপুরার ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য প্রথমে এসব ঘটনা চেপে রাখা হয়। তারপর ঘুরপথে সংবাদগুলো ছড়াতে থাকে। জার্মান গণমাধ্যম ‘ডয়েচে ভেলে’ বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার করে, এছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ধীরে ধীরে ছড়ায়। হয়তো এখনও কিছু তথ্য চেপে রাখা অথবা নষ্ট করে ফেলা হয়েছে –এমনটাই অনেকের অনুমান।
তাই যাচাই করা হয়েছিল উনকোটির ঘটনা সত্যি কিনা। উনকোটির পুলিশ সুপার রতিরঞ্জন দেবনাথ জানান, “যেভাবে গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হয়েছিল, তাতে পাহাড়ের ওপর ওই জায়গায় মূর্তি রেখে আসা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়”। তাহলে এই গুজব রটাল কারা? মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304


উনকোটির গুজব ত্রিপুরায় টেনে আনল কুমিল্লাকে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, আরএসএস, বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের গেরুয়া বেশধারী বিক্ষোভকারীরা দলে দলে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় শুরু হয় দোকানপাট ভাঙচুর, ৬ টি মসজিদে ভাঙচুর সহ আগুন জ্বালানো হয়।

গত ২১ অক্টোবর উদয়পুরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ওই মিছিল ঠেকাতে পুলিশের সাথে রীতিমতো সংঘাত বেঁধে যায়। পুলিশের দিকে ইঁট পাটকেল ছোঁড়া হলে পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ শুরু করে। অবশেষে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে এলাকাগুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। শুধু তাই নয়, ত্রিপুরার প্রায় ১৫০ সংখ্যক মসজিদে নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সংখ্যালঘু সংগঠন জামিয়াত উলেমা হিন্দ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বাতিল করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’।


কুমিল্লার দুর্গাপূজোয় হিংসা, ত্রিপুরায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব বাতিল দুটি ঘটনাতেই স্পষ্ট — সাম্প্রদায়িক হিংসা দেশের ও জাতির সংস্কৃতিতে কতটা নিন্দনীয় প্রভাব ফেলেছে! ‘হিন্দু এবং মুসলিম ধর্মীয় মৌলবাদী স্বার্থ’ বরাবর বিনষ্টিকরণ আর ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্পর্ক নষ্ট করাতেই বিশ্বাসী। কিন্তু তার পাল্টা সংস্কৃতিও রয়েছে– ইতিহাস তার সাক্ষী।


কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যমের ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি ‘ জাতীয় সংবাদ পরিবেশনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষিত মহল। কেননা তাঁরা জানতে পারছেন, এবং বিশেষভাবে সকলকেই জানানো প্রয়োজন — ‘জামিয়াত উলেমা হিন্দ’ সংগঠন বাংলাদেশের হিন্দু মূর্তি ভাঙার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং ত্রিপুরার (বিজেপি) সরকারের প্রতি আস্থা রেখেই শান্তির দাবি জানিয়েছেন।

আগরতলার গেদু মিয়া মসজিদ সংগঠনের সভাপতি মুফতি তৈবুর রহমান বলেছেন, “ত্রিপুরার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কেউ বাংলাদেশে ওই ধরনের সহিংসতা সমর্থন করেনা। আমরা এর প্রতিবাদও করেছি”।

পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে ‘বেঙ্গল ইমাম’স অ্যাশোসিয়েশন’ বাংলাদেশ সরকারের কাছে হিন্দুদের পাশাপাশি থেকেই আবেদন জানিয়েছেন দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। ইমামদের এই সংগঠন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ভারতের সংখ্যালঘু হিসেবে আমরা বুঝতে পারছি, আমাদের হিন্দু ভাইবোনেরা কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন”।


তবু কেন অবুঝপনা হিংসা ও রক্তপাত? কারা প্রকৃত ষঢ়যন্ত্রী? বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার জনগণ একসাথে আজ এই প্রশ্ন করছেন।