IMG_20211115_185143

গত অক্টোবর মাসে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল ত্রিপুরায়। ওইসময়ের অশান্তির খবরের পাশাপাশি দরগাবাজার মসজিদ ভাঙচুরের একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যাতে বিশ্বহিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে আঙুল ওঠে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন ; কোনও মসজিদে ভাঙচুর চালানো হয়নি।

এই খবরের সত্যতা যাচাই করতেই ত্রিপুরা যাচ্ছিলেন ২ মহিলা সাংবাদিক সমৃদ্ধি সাকুনিয়া ও স্বর্ণা ঝা। ত্রিপুরার পাশের রাজ্য অসমেই তাঁদের আটক করে পুলিশ। সমৃদ্ধি জানিয়েছেন, “আমাদের আইনজীবী আসছেন জানিয়ে আমরা পুলিশকে অপেক্ষা করতে বলি। কিন্তু তারা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলতে থাকেন এখানে কেউ আসবেনা”। এমনকি গ্রেপ্তারের সময় কোনরকম ওয়ারেন্টও দেখানো হয়নি বলেই জানিয়েছেন সমৃদ্ধি।

আটক দুই সাংবাদিক সমৃদ্ধি ও স্বর্ণা


এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে ‘সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছড়ানোর’ অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ত্রিপুরা পুলিশ। মামলা আগে থাকতেই রুজু হয়েছিল বলেই জানা যাচ্ছে। সমৃদ্ধি সাকুনিয়া তাঁর বেশকিছু ট্যুইটে ত্রিপুরার অশান্তি ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের অত্যাচারের খবর তুলে ধরেছিলেন, তার ভিত্তিতিই সমৃদ্ধির ওপর মামলা করা হয়েছে। সঙ্গে ছিলেন আরো এক সাংবাদিক স্বর্ণা ঝা।

গ্রেপ্তারের খবর জানিয়ে ট্যুইট মারফত সমৃদ্ধি বলেন, ত্রিপুরার গোমতি জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসমের করিমগঞ্জের নিলামবাজার থানায় তাঁদের আটকানো হয়। তবে এই ঘটনার জের শুরু হয়েছে অক্টোবর মাসেই এবং যার ধারাবাহিকতাতেই ২ সাংবাদিক আটক, এমন মনে করার সঙ্গত কারণ রয়েছে।


উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে ত্রিপুরার সাম্প্রদায়িক অশান্তির খবর ছড়ানোর পরে পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার ব্যক্তিদের শনাক্ত করা শুরু হয়েছিল। ওইসকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (Unlawfull activities prevention act) ধারায় মামলা করা হয়। প্রায় ১০২ টি ট্যুইটার অ্যাকাউন্টধারী এই তালিকায় রয়েছেন। ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অ্যাকাউন্ট যাদের, তাদের সকলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। কারণ ওইসব অ্যাকাউন্ট থেকে সহিংসতায় মদত দেওয়া হয়েছে বলেই ত্রিপুরা পুলিশের অভিযোগ।


এই অভিযুক্তদের মধ্যে একজন সাংবাদিক শ্যাম মীরা জানাচ্ছেন, তিনি তাঁর ট্যুইটে মাত্র তিনটি শব্দ “ত্রিপুরায় আগুন জ্বলছে”(Tripura is burning) লিখেছেন। এর ভিত্তিতেই ত্রিপুরার বিজেপি সরকার ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করেছে।

একথা জানিয়ে রিট্যুইট মারফত ওই সাংবাদিক এরপর বলেছেন, “সুবিচারের জন্য সবসময় কথা বলব, দেশের প্রধানমন্ত্রী কাপুরুষ হলেও সাংবাদিকরা নন”।

শ্যাম মীরা সিংয়ের ট্যুইটের অংশবিশেষ


শুধু সাংবাদিকরাই নন, মানবাধিকার সংগঠনের তরফে ত্রিপুরার সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ২ আইনজীবী মুকেশ কুমার ও আনসার ইন্ডোরিকেও ইউএপিএ মামলায় ফেলা হয়েছে। আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির সরাসরি বক্তব্য যাঁরা সহিংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং ত্রিপুরার বিজেপি সরকারকে দায়ী করছেন, বেছে বেছে তাঁদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অথচ প্রকৃতই যাঁরা হিংসায় অংশ নিয়েছে তারা ঘুুরে বেড়াচ্ছেন।


এদিন ভারতের দুই মহিলা সাংবাদিককে ত্রিপুরা পুলিশ খবর সংগ্রহে বাধা দিয়ে আটক করায়, প্রশাসনের স্বচ্ছতা আরো একবার প্রশ্নের মুখে পড়ল বলেই অনেকে মনে করছেন। আজ নিলামবাজার থানায় সাড়ে তিন ঘন্টা আটকে রাখার পর আগরতলায় নিয়ে গিয়ে একটি হোটেলের ঘরে ২ সাংবাদিক সমৃদ্ধি ও স্বর্ণাকে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে বলেই খবরে প্রকাশ। আগামীকাল ২১ নভেম্বর তাঁদের জেরার করার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ।


এই ঘটনার নিন্দা করে সোচ্চার হয়েছে এডিটর’স্ গিল্ড। তারা দাবি জানিয়েছেন আটক ২ সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com