আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

দিশাহারা বাবুলকেই এতবড় দায়িত্ব দিলেন মমতা ব্যানার্জী

Current India Features Politics

মন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ায় বিজেপিতে পদত্যাগ, তারপরেই বলেছিলেন রাজনীতি মঞ্চ থেকেই বিদায় নিতে চান, এরপরেও দিব্যি তৃণমূলে যোগ দিয়ে বললেন, “মানুষের সেবাই আসল, সেটা দিদির নেতৃত্বে করতে পারলে ভালো লাগবে”। আপাতদৃষ্টিতে এই অ-মতিস্থির বাবুল সুপ্রিয়কেই এতবড় একটা দায়িত্ব দিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী? বাবুল সামলাতে পারবেন তো? এসব প্রশ্নই গুঞ্জনের মতো ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।


সম্প্রতি, তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পরবর্তী রণনীতির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে। রাজ্য ছেড়ে দল এবার দেশব্যাপী ছড়াতে চাইছে বিস্তার। আর সেই তালিকায় টার্গেট হিসেবে রয়েছে ত্রিপুরা, গোয়া এবং অসম।
ত্রিপুরায় জমি প্রায় তৈরি। পুরভোটের প্রস্তুতিকে লক্ষ্য রেখে ৩ নেতার অধীনে ৩০ জন প্রতিনিধি দল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বাকিটা সামলে নেবেন অভিষেক ব্যানার্জী।

এরপরেই হিট লিস্টে গোয়া। সেখানে দলের বিস্তার না ঘটলেও গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সহ ৫ জন সেলিব্রিটি ব্যক্তিত্ব তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। পাশে সহযোগ দিতে চলেছে ‘গোয়া ফরোয়ার্ড পার্টি’। তবে কর্মসূচি এখনও সেখানে নেওয়া হয়নি। এবার হতে চলেছে। আর সেই দায়িত্বই দেওয়া হল বাবুল সুপ্রিয়কে।


পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-এ গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার এই গোয়া সফর তাই নির্বাচনে জেতার প্রস্তুতিই বলা যায়। এই লক্ষ্যকে মাথায় রেখেই গোয়ায় ২৫ অক্টোবর পানাজি থেকে কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গোয়েঞ্চি নভি সকাল’।


এই কর্মসূচির পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাবুলের ওপর। সঙ্গে অবশ্য বরিষ্ঠ নেতা সৌগত রায়ও থাকছেন। ২৮ অক্টোবর গোয়া পৌঁছচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগেই সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখবেন বাবুল সুপ্রিয়। সেই কারণেই সংশয় ঘনিয়েছে রাজনৈতিক মহলে, যেখানে দলের সাংগঠনিক পরিকাঠামো তৈরি নেই, সেখানে এই বিজেপি ফেরত নেতা কি পারবেন এত বড় দায়িত্ব সামাল দিতে!


তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময় অবশ্য বলেছিলেন বাবুল, “আমি প্রথম একাদশের প্লেয়ার। অথচ বিজেপিতে সেই সুযোগ পাচ্ছিলামনা”। আপামর বাঙালির হয়ে কাজ করার জন্য এবার তৃণমূল তাঁকে সুযোগ দিয়েছে।


প্রসঙ্গত, সামাজিক মাধ্যমে বিজেপি ছাড়ার প্রসঙ্গে বাবুলের “দশটাকা জরিমানা কেস লড়ে রিভোক করানো” নিয়ে পাল্টা উত্তর দিয়েছিলেন বিজেপির জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি বলেছিলেন, “মন্ত্রীত্ব চলে যাওয়াটা যদি জরিমানা হয়, তাহলে বিনা পরিশ্রমে রামদেব বাবার সুপারিশে এবং মোদিজির জনপ্রিয়তায় সাংসদ পাওয়াটা লটারিতে প্রাইজ জেতার মতোই নয় কি?”


এই তরজায় অবশ্য কান দিচ্ছেননা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, “এখন বাবুল তৃণমূলে এসেছে, তাই ওকে নিয়ে অনেক কথা হবে”। আর সেই ভরসাতেই বলেছেন, “বাবুলকে তৃণমূলের তরফ থেকে একটা অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয়েছে”।


গোয়া-ই সেই অ্যাসাইনমেন্ট। এবার গোয়ায় ‘খেলা হবে ‘। আর সেই খেলাই বলে দেবে প্রথম একাদশের প্লেয়ার বাবুল সুপ্রিয় কেমন খেলেন।