কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

দুর্গার বেশভূষায় হিজাব, নাকাব! দেখে খেপে উঠল ধর্মীয় মহল: শিল্পী সনাতন দিন্দাকে প্রাণনাশের হুমকি

Current India Features

হিজাবে, নাকাবে ঢাকা ত্রিনয়নী মায়ের মুখ। দুচোখ থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে একটি মেয়ের অন্তর্লীন যন্ত্রনা!
নিজের আঁকা এই ছবি ঘিরেই প্রবল অসন্তোষের মুখে পড়লেন প্রখ্যাত শিল্পী সনাতন দিন্দা।
গত ১লা সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ার দেয়ালে নিজের আঁকা এই ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশানে লিখেছিলেন ‘মা আসছেন’। ব্যস! শুরু হয়ে যায় তুমুল বিতর্ক। হিন্দু দেবীর আবরনে হিজাব, নাকাব? এ কিছুতেই মেনে নেওয়া যায়না — বলে শোরগোল তোলেন কিছু মানুষ। শিল্পীর বিরুদ্ধে আক্রমণ, এমনকি খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ মাধ্যমকে শিল্পী জানান,”আমি মায়ের ছবি এঁকেছি। দেশ কালের গন্ডি পেরিয়ে আমাদের সবার মা। একটি আবরণ, একটি Vail, তাকেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি ছবিতে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষাই আমার ছবির উদ্দেশ্য, কোনো ধর্মকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়”। একথা বলার শেষে শিল্পী সনাতন দিন্দা স্পষ্টতই বিজেপির মহিলা মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট কেয়া ঘোষের দিকে ইঙ্গিত করেন।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

সনাতন বলেন,”উনি শুধু শুধু জল ঘোলা করেছেন। তারপরেই আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিজেপির আইটি সেল”। সনাতনের অভিযোগ তাঁর মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে।

দেবীর বেশভূষায় হিজাব ও নাকাব হিন্দু ধর্মের দেবীর প্রতি অপমানজনক কিনা সে প্রশ্নকে একটু সরিয়ে ছবিটা ভালো করে দেখলে লক্ষ্য করা যাবে — আসলে ছবিটিতে ফুটে উঠেছে যন্ত্রনাদগ্ধ আফগান মেয়ের একটি আদল, যাকে সম্ভবত শিল্পী ‘দেশকালের গন্ডী ছাপিয়ে’ বোঝাতে চেয়েছেন।


সেটা বিজেপি মহিলা মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্টের নজরও এড়ায়নি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতেই তার স্পষ্ট উল্লেখ আছে। তিনি শিল্পীর উদ্দেশ্যে বলেছেন,
“আফগানিস্তানের নির্যাতিতা মেয়েদের প্রতি ওনার সহানুভূতি থাকতেই পারে, কিন্তু তার জন্য অসংখ্য মানুষের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার কোনো অধিকার ওনার নেই”।


এই বক্তব্য ধরলে একটি প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি আফগানের নির্যাতিতা মহিলাদের প্রতি কেয়া ঘোষ মহাশয়ার কোনো সহানুভূতি নেই?


হুমকির ব্যাপারটা অবশ্য স্বীকার করতে চাননি কেয়া ঘোষ। তবে নিজের করা ট্যুইটে দিন্দার ছবির প্রতি তাচ্ছিল্যের মনোভাব ফুটে উঠেছে স্পষ্ট। তাছাড়া ট্যুইটে তিনি শুধু দিন্দাকেই নয়, বাংলার বুদ্ধিজীবিদেরও তির্যক ইঙ্গিত করেছেন।


ফেসবুকে আরও একজনের পোস্ট দেখতে পাওয়া গেছে যিনি সনাতনের ছবির বিরুদ্ধে সবাইকে উস্কে শুরুতেই বলছেন ,” I have no idea who is Sanatan Dinda..!” অর্থাৎ শিল্পীকে চেনেনই না তিনি। অথচ একটি শিল্পকর্মকে অনায়াসে ‘গর্হিত’ বলে চিহ্ন দেগে দিয়েছেন।


অতীতেও মকবুল ফিদা হোসেনের সরস্বতীর ছবি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। ধর্মকে গায়ের জোরে চাপিয়ে শিল্পকে আক্রমণ নতুন নয়– শিল্পের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাসী তাঁরা এমনটাই মনে করেন। তবে আরও এক বিখ্যাত শিল্পী সমীর আইচ, শিল্পীর স্বাধীনতার সপক্ষে হলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগের বিষয়েও সচেতন থাকা উচিত।

যাই হোক, শিম্পী সনাতন দিন্দা শেষপর্যন্ত ছবিটি ডিলিট করতে বাধ্য হয়েছেন। ছবি মোছার আগে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন,” মা আসছেন ছবিটা ডিলিজ করতে বাধ্য হলাম। যে ভাষায় আমাকে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন দিক থেকে threat call আসছেে, সেটা সামলানো মুশ্কিল হচ্ছে। আমার ছবি দেখে যাদের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে, তাঁদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী “।