কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে তৃণমূল, এবার উত্তরভারতেও ক্ষমতা বিস্তার

Current India Features Politics

বাংলা ছাপিয়ে এবার ছড়িয়ে পড়ছে ঘাসফুলের শিকড়। একদিকে যেমন বিজেপি বিরোধী ‘প্রধান মুখ’ হিসেবে মমতার জনপ্রিয়তা চুম্বকের মতো অন্য রাজ্যকে টানছে, তেমনই দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিস্তারে কার্যকরী ভূমিকায় নেমে পড়ছেন। তার প্রমাণ হিন্দি অধ্যুষিত উত্তরভারত ও হরিয়ানার তিন ভিন্ন রাজনীতিকের সদ্য তৃণমূলে যোগদান। মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন কীর্তি আজাদ, অশোক তানওয়ার ও পবন বর্মা। এই তিনজনেরই ভারভীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং হিন্দি অধ্যুষিত রাজ্যগুলোয় তৃণমূল কংগ্রেস এবার যে দীর্ঘমেয়াদী শক্তিশালী রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র হতে চলেছে তাতে সন্দেহ নেই।


প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদের বাবা ছিলেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভগবৎ ঝা। কীর্তির বংশেই রাজনীতি, তাই সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছেন। বিজেপির টিকিটে লড়েই ২ বার সাংসদ হয়েছেন। তবে ২০১৯ সালে বিজেপির সাথে সম্পর্ক ছেদ করে কংগ্রেসে চলে যান।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304


কীর্তির পাশাপাশি বিশেষ চোখ টানছেন হরিয়ানার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অশোক তানওয়ার। দিল্লীর জেএনইউর প্রাক্তনী কংগ্রেসে রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন একসময়। কংগ্রেসের যুব সংগঠনের সভাপতির পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন, পাশাপাশি সামলেছেন হরিয়ানার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিত্বের পদ। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সিরসা কেন্দ্র থেকে জিতলেও, পরের দুবার হেরে যান। আর তার কিছুদিনের মধ্যেই ভূপেন্দ্র সিং হুডার সঙ্গে বিবাদের জেরে ২০১৯ এ কংগ্রেস ত্যাগ করেন। তবে দল ছাড়লেও এই নেতা লড়াই ছাড়ার পাত্র নন। কংগ্রেস ছেড়ে ত্রিপুরার প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি তথা ত্রিপুরার মহারাজা প্রদ্যোত দেববর্মণের সাথে হাত মেলান এবং প্রদ্যোতের নিজস্ব সংগঠন ‘তিপ্রা মথা’-য় অংশ নেন। পরে প্রদ্যোত দেববর্মণের পৃষ্ঠপোষকতায় ও সহযোগিতায় এই বছরের শুরুতেই দিল্লীতে নিজের স্বতন্ত্র দল ‘আপনা ভারত’ গঠনের ঘোষণা করেছিলেন অশোক তানওয়ার। আজ তিনিই যোগ দিলেন তৃণমূলে।


বিশেষভাবে উল্লেখ্য, প্রদ্যোতের দল ‘তিপ্রা মথা’ ত্রিপুরার স্বয়ংশাসিত উপজাতি পরিষদের নির্বাচনে বিজেপি-আইএফটি জোটকে বিপুল ভোটে পরাস্ত করে। সুতরাং অশোক তানওয়ারের যুদ্ধসঙ্গী প্রদ্যোত দেববর্মণ একবার তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে হাত মেলালে, ভবিষ্যতে বিজেপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবেই। কেননা ত্রিপুরার মোট ৬০টি বিধানসভা কেন্দ্রের সিংহভাগই উপজাতি পরিষদের দখলে।


হিন্দি অধ্যুষিত রাজ্যে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া আর এক নেতা হলেন পবন বর্মা। বিহারের এই নেতা জেডি(ইউ) সাংসদ ছিলেন। প্রশান্ত কিশোরের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু পবন বর্মা একসময় নীতিশ কুমারের পরামর্শদাতাও ছিলেন। নীতিশ-বিজেপি যোগ সাজশের বিরোধীতা করে এবং সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে জেডি(ইউ) ছাড়েন, পবন-প্রশান্ত দুজনেই। সেই পবন বর্মা মঙ্গলবার তৃণমূলে যোগ দিলেন।


তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েই অশোক তানওয়ার তাঁর ট্যুইটে লিখেছেন, “ভারতীয় রাজনীতি আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়াল। একদিকে আমাদের বিজয়ের উল্লাস কিন্তু তার নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রান্তিক মানুষের দুরবস্থা এবং আর্তনাদ। স্রোতের মুখ ঘোরাতে এবার আমাদের নতুন রাজনীতি দরকার”।


নতুন রাজনীতির প্রতিনিধি বলতে অশোক তানওয়ার কোন দলকে উদ্দেশ্য করেছেন তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। হিন্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য এই তিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের যোগদান সারা দেশে তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে আলাদাই এক শক্তিবলয় তৈরি করে দিল, যার প্রসার ভারতের ভবিষ্য রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।