আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

পথেঘাটে কোমর জল : সন্তানকে হাঁড়িতে ভাসিয়ে পোলিও খাওয়াতে নিয়ে এলেন বাবা

Current India Features Health

কাল ছিল পোলিও রবিবার। এদিকে  একটানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন ক্যানিং ২ সহ আশপাশের অঞ্চল। জল কোথাও হাঁটুর ওপর , কোথাও বা কোমরসমান। তারই মধ্যে দিয়ে জল ভেঙে বৃষ্টি ভিজে এলাকায় ঘুরে বাচ্চাদের পোলিও খাওয়াচ্ছিলেন আশাকর্মীরা। সত্যিই এজন্য তাদের ধন্যবাদ প্রাপ্য তো বটেই, অন্যদিকে সদ্যজাত শিশুর বাবা নিজামউদ্দিন যে কান্ড করলেন তা আশাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে!

টানা বৃষ্টিতে ক্যানিং ১ নম্বর ও ২ নম্বর ব্লকের চলার রাস্তা জল জমে নদীর মতোই প্রায়। ওই জলমগ্ন রাস্তায় দেড়শোরও বেশি আশাকর্মী জল ভেঙে, ভেলায় চেপে প্রায় ১২,৬১২ টি বাচ্চাকে এদিন পোলিও খাইয়েছেন।
ওইভাবেই জলভরা পথ ঠেলে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিজামউদ্দিনের বাড়ি পৌঁছে দেখেন কোমরসমান জল। নামতে না পেরে ওখনে দাঁড়িয়েই নিজামউদ্দিনের নাম ধরে ডাকতে থাকেন তাঁরা। তারপর যা দেখলেন তা অবিশ্বাস্য।


স্বাস্থ্যকর্মী সোনালি বলছেন,”জল এতটাই বেশি যে পোলিও বাক্স নিয়ে আমরা নামতে পারছিলাম না”।
ডাক দেওয়ার পরেই স্বাস্থ্যকর্মী সোনালি ও নমিতা দেখলেন একটা হাঁড়ি  ভাসিয়ে আনছেন নিজামউদ্দিন!  হাঁড়িতে কী আছে ?
সোনালিরা দেখলেন হাঁড়ির মধ্যে নিজামউদ্দিনের ১৫ দিনের কচি ছেলেটাই দিব্যি কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে। আর দেরি করেননি সোনালি ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মী নমিতা। তারাও খানিকটা নেমে এগিয়ে আসেন, ওখান থেকেই বাচ্চাটাকে  পোলিও খাইয়ে দেন তারা।
নিজামউদ্দিনের বড় ছেলেটা আর একজনের কাঁধে চড়ে এসেছিল।

বাচ্চাকে হাঁড়ির ভেতর ভাসিয়ে আনার বুদ্ধি এল কীকরে!
২৭ বছর বয়সী বাবা নিজামউদ্দিন জানিয়েছেন, স্ত্রী সাফিয়ার জল ঠেলে আসার ক্ষমতা নেই। ১৫ দিনের বাচ্চা, কোলে আনতে গেলে ছোট বাচ্চা যদি পড়ে যায়! তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের ডাক পেতেই চকিতে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় নিজামউদ্দিন। পোলিও টিকা মিস করা চলবেনা। তাই ঘরে রাখা বড় হাঁড়িতে শুইয়েই কোমর জলে নেমে যায়।


বাচ্চাটাও নিরাপদে হাঁড়ির নৌকায় ভেসে পৌঁছে গেল আশাকর্মীদের কাছে।

“বাচ্চাদের তো পোলিও খাওয়াতেই হবে তাই এভাবেই পৌঁছে গেলাম”। বাচ্চার বাবার এই কথা শুনে যেমন হতবাক, তেমনি তার বাচ্চা বয়ে আনার চমকপ্রদ কান্ড দেখে প্রশংসার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেননা আশাকর্মীরা।