IMG_20211124_215615

কঙ্গনা রানাওয়াত সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন ভারতবর্ষ তথা বাংলার অগনিত বিপ্লবীকে যাঁরা দেশের জন্য রক্তাক্ত বলিদান দিয়েছিলেন। ধরিয়ে দিলেন পর্দায় ‘ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান সুপারহিরো’ মুকেশ খান্না। সগৌরবে তুলে ধরলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নাম। দেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত আলোচনা যাঁকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, সেই বাঙালির বীর বিপ্লবী নেতাকে।


সম্প্রতি নিজের বিতর্কিত মন্তব্যে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত বলেছিলেন, “১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা আসেনি, যা এসেছিল সেটা ভিক্ষা। আসল স্বাধীনতা ২০১৪ সালে (মোদী জমানায়) এসেছে”। বিজেপি ঘনিষ্ঠ কঙ্গনার এই মন্তব্য নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা লক্ষ্য করা গেছে। কেউ অন্ধভাবে কঙ্গনাকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ সরাসরি দাবি তুলেছেন ‘পদ্মশ্রী’ উপাধি ফিরিয়ে নেওয়ার।

এবার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেতা মুকেশ খান্না। প্রথমত তিনি কঙ্গনার এই মন্তব্যকে নির্লজ্জ চাটুকারিতা এবং শিশুতুল্য উক্তি বলেছেন। পাশাপাশি ইঙ্গিত করেছেন, হয়তো এটা ‘পদ্মশ্রী’ পাওয়ার ‘সাইড এফেক্ট’। এরপরেই নিজের মতামত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন ‘ভীষ্ম’ মুকেশ।


কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে সিপাহী বিদ্রোহের তুলনা টেনে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে প্রশ্ন করেছিলেন, “১৯৪৭ সালে আদৌ এমন কোনও বিদ্রোহ হয়েছিল কি?” মুকেশ খান্না মনে করালেন ভারতের অগনিত বীর বিদ্রোহী সশস্ত্র সৈনিকদের কথা। মনে করালেন ‘মোদীজি’ নয়, ‘গান্ধীজি’ও নয় — সগৌরবে উজ্জ্বল উপাধিধারী ‘নেতাজি’কে।


নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মুকেশ খান্না বলেছেন, “অনেকেই মনে করছিলেন স্বাধীনতা নিয়ে কঙ্গনার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কেন আমি কিছু বলিনি। তাদের জানাই, ইতিমধ্যেই আমার মতামত আমি রেখেছি। তবু মনে হল পাব্লিকলি আরো একবার বলে দেওয়াই ভালো”। এরপরই তিনি কঙ্গনার মন্তব্যকে বালখিল্য, চাটুকারী ও পদ্মশ্রী উপাধির সাইড এফেক্ট বলে উল্লেখ করেন। তারপর বলেন, “স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টই এসেছিল…তবে এক্ষেত্রে খোলাখুলি বলতে চাই, যারা মনে করেন ‘বিনা রক্তপাতে, সাবরমতীর সন্তদের দ্বারাই স্বাধীনতা এসেছে'(দে দি হামে আজাদী বিনা খড়্গ বিনা ঢাল/সাবরমতী কে সন্ত তুনে কর দিয়া কামাল) তারাও ততটাই ভুল, যতখানি ভুল কঙ্গনার এই স্টেটমেন্ট”।

https://www.instagram.com/p/CWi6-OtM7T9/?utm_medium=copy_link

গান্ধীবাদকে ঈষৎ কটাক্ষ করে এরপরই মুকেশ জোরালোভাবে বলেন, “পরাক্রমশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মনে যদি কেউ প্রকৃতই ভয়ের সঞ্চার করে থাকে তবে তা করেছিলেন অসংখ্য ক্রান্তিকারী বিপ্লবী, ভয় সৃষ্টি করেছিল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ বাহিনী”।


বাস্তবিক এভাবেই কঙ্গনার মন্তব্য প্রসঙ্গে অসংখ্য বিপ্লবী এবং বাঙালী তথা ভারতের গর্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে স্মরণ করিয়ে দিলেন মুকেশ খান্না। উল্লিখিত আলোচনায় যা সত্যিই এক আলাদা মাত্রা যোগ করল।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com