কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন : মর্মান্তিক সাক্ষী ১২ বছরের ছেলে

Current India Features

স্ত্রীকে সন্দেহ করত রুবেল হালদার। পরকীয়ার অভিযোগে মারধোরও চলত। স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতনের মামলাও করেছিলেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা। ১২ বছরের ছেলেকে সঙ্গে করে অন্য ভাড়াবাড়ি নিয়ে থাকতে শুরু করেন। এদিন আকস্মিক ভাবেই শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। আর তখনই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। স্ত্রীকে ছেলের সামনেই কুপিয়ে খুন করল রুবেল।

নিহত প্রিয়াঙ্কা


নিউটাউনের শিলঙগুড়ি এলাকায় ঘটেছে এই ঘটনা। এলাকা সূত্রে পাওয়া খবর বলছে, ২৬ বছরের স্ত্রীর সাথে স্বামী রুবেলের ঝগড়া বিবাদ অনেকদিন ধরেই চলছিল। পরকীয়া প্রেমের সন্দেহ করে প্রায়ই প্রিয়াঙ্কাকে মারধোর করত রুবেল। শেষপর্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে ১২ বছরের ছেলেকে সাথে নিয়ে অন্যত্র থাকতে শুরু করে প্রিয়াঙ্কা।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ছেলেকে প্রাইভেট টিউটরের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। হঠাৎ কি মনে হওয়ায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে হাজির হন।
একে বধূ নির্যাতনের মামলা চলছিল। স্ত্রীর ওপর রাগের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিলই, এই পরিস্থিতিতে নিজের বাড়িতে হঠাৎ স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে দেখামাত্রই সে আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে। চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেয় রুবেল। সেদিকে তোয়াক্কা না করে স্বামীর কাছে প্রয়োজনীয় টাকা চেয়ে বসেন প্রিয়াঙ্কা।

এলাকা সূত্রে জানা গেছে চিৎকারের মূহুর্তেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে প্রিয়াঙ্কার অন্য পুরুষদের সাথে সম্পর্ক নিয়ে নোংরা ইঙ্গিত করতে থাকে রুবেল, পাল্টা প্রিয়াঙ্কাও ওই এক অভিযোগ স্বামীর প্রতি জানান। বাদানুবাদ ক্রমশ বাড়ে। যার ফলে রাগের মাথায় ছেলের সামনেই স্ত্রীকে আক্রমণ করেছিল রুবেল হালদার।

রুবেল হালদার


পুরো ঘটনাটাই ছেলেটির সামনে ঘটেছিল। ভীষণ শক পেয়েছে ওই ১২ বছর বয়সী ফুটফুটে ছেলে। তবে পুলিশের কাছে তার বয়ান ছিল আবশ্যক। ছেলেটি জানায়, কথা কাটাকাটি চলাকালীনই স্বামীকে টপকে ঘরে ঢুকতে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। স্ত্রীকে আটকাতে পায়ের কাছে পড়ে থাকা কাঠের একটা বাটাম দিয়ে সজোরে তার মাথায় বারি মারে রুবেল। আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে প্রিয়াঙ্কা মাটিতে পড়ে যান। তখনই হাতে কাটারি তুলে নেয় রুবেল। অচৈতন্য স্ত্রীকে নিষ্ঠুর ভাবে কোপাতে থাকে। রক্তারক্তি কান্ড দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়ে ছেলেটি পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে ছুটে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করে। প্রতিবেশীরা এসে দেখেন প্রিয়াঙ্কার নিথর দেহ রক্তে ভাসছে। বিধাননগর সেবাসদন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।


২৮ বছরের রুবেল হালদারকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১৪ বছরের বিবাহিত জীবন শুরুর দিকে আনন্দে মিলেমিশে কাটালেও পরে সেই সম্পর্কে চিড় ধরেছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই চরমে উঠেছিল স্বামী স্ত্রীর অশান্তি। পুলিশের কাছে রুবেল হালদারের বিরুদ্ধে আগে থাকতেই বধূ অত্যাচারের মামলা রুজু হয়েছিল। এবার স্ত্রীকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে খুন, ১২ বছরের ছোট ছেলেটির অনুভূতির পক্ষে যা সত্যিই মর্মান্তিক।