আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

paralympic

প্যারালিম্পিক : প্রতিবন্ধকতা জয়ের এক উজ্জ্বল নজির

Features International Sports

মাত্র কিছুদিন আগেই শেষ হল অলিম্পিক। গৌরবের আলোয় নিজেকে আলোকিত করে ভারত জিতে নিল ৭টি মেডেল। শুধু তাই নয়, বর্শানিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে প্রথম ভারতের হয়ে স্বর্ণপদক জিতে এলেন নীরজ চোপড়া । অলিম্পিকের ইতিহাসে তাই ২০২১ সাল ভারতের কাছে স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই অলিম্পিকের রেশ থাকতে থাকতেই এ মাসেরই শেষে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আরও এক অলিম্পিক – ‘প্যারালিম্পিক ২০২০’। কেন এই সালের হেরফের?

কোভিড প্যানডেমিকের কারনে আগের পরিকল্পিত সমস্ত ইভেন্টই বাতিল করা হয়। সেই সূত্র বজায় রাখতে তাই এবছর অনুষ্ঠিত দুটি অলিম্পিকেরই সময়কাল না বদলে ২০২০ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। প্যারালিম্পিক শুরু হচ্ছে ২৪শে আগস্ট। চলবে ৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ব্যাডমিন্টন, তাইকোন্ডু সহ ৯টি ইভেন্টে ৫৪জন ক্রীড়াবিদ এখানে অংশ নিতে চলেছেন।  শুধুমাত্র ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ নয়, শারীরিক ও মানসিক সমস্তরকম প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও এই প্রতিযোগিতার আলাদা এক গুরুত্ব রয়েছে।  

paralympic 2021

৯৬০ সালে রোমে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম প্যারালিম্পিক।  যেখানে প্রায় ৪০০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। এরা সবাই ছিলেন শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী। ওই প্রতিযোগিতায়  তীরন্দাজ হিসেবে ব্রিটেনের হয়ে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন মার্গারেট মোন । মার্গারেট একটা গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদন্ডে গুরুতর আঘাত পেয়ে টানা একবছর শয্যাশায়ী ছিলেন। এখান থেকেই লড়াইয়ের শুরু। চিকিৎসার জন্য যেখানে মার্গারেট ভর্তি ছিলেন, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সেই স্টোক ম্যান্ডেভিল হাসপাতালকে ‘প্যারালিম্পিক’ এর জন্মস্থান বলা হয়ে থাকে। এই অভিনব গেম প্ল্যানের উদ্যোগ যিনি নিয়েছিলেন তিনি ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক জার্মানির স্নায়ু বিশেষজ্ঞ ডক্টর গ্যুটম্যান।

১৯৪৮ সাল থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে জাতীয় স্তরে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। তখন অবশ্য এই প্রতিযোগিতা ম্যান্ডেভিল গেম্‌স নামেই পরিচিত ছিল। ক্রমশ এই গেমের কথা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় অলিম্পিকের সমান্তরাল এক নতুন অধ্যায়। প্রসঙ্গত বলে রাখা দরকার – এই বিশেষ অলিম্পিক বিশেষ শারীরিক – মানসিক অবস্থার ক্রীড়াবিদদের নিয়ে হলেও কোনওরকম বিশেষ সুবিধা বা নিয়ম সেখানে নেই। অলিম্পিকের সমস্ত সাধারণ নিয়মগুলোই তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অর্জিত মেডেল ১২টি। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি নাম দেবেন্দ্র ঝাঝারিয়া। যিনি জাভেলিন অর্থাৎ বর্শা নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় দুবার স্বর্ণপদক জেতেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে শুধু অলিম্পিকেই সোনার মেডেল নয়, প্রথম ভারতীয় হিসেবে প্যারালিম্পিকেও সোনাজয়ে ভারত আগে থেকেই এগিয়ে! এবারেও সেই ধারা বজায় থাকবে কি!আমাদের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি–  খেলার মাঠের উদ্যম কেবলমাত্র মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনা। তা ছড়িয়ে যায় উৎসাহী ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে। এমনকি যারা মাঠ থেকে অনেকদূরে বসে টেলিভিশন বা ফোনস্ক্রিনে খেলা দেখেন উদ্দীপিত হন সেইসব দর্শকও।

এই মূহুর্তে আমরা তথা সারাবিশ্ব এক কঠিন পরিস্থিতি র মধ্যে দিয়ে চলেছি। কোভিডের কারনে ভয়, প্রতি পদক্ষেপে বাধাবিপত্তি আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা এনে চলেছে নিয়ত। ঠিক এমনই এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্যারালিম্পিক—এক দুঃসাহসিক লড়াই। এই লড়াই প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে বিশ্ববাসী তাদের হারানো মনোবল ফিরে পাবে, উদ্দীপনা পাবে চলার পথে এমনটা আশা করাই যায়।  এখন শুধু নির্দিষ্ট দিনটার অপেক্ষা।