আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

প্রাণের ভয়ে দেশ ছাড়লেন আফগানিস্তানের মহিলা সাংবাদিক বেহেস্তা আরঘান্দ

Features International Politics

প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়লেন আফগানিস্তানের মহিলা সাংবাদিক বেহেস্তা আরঘান্দ। আগস্টের মাঝামাঝিই তিনি নজির গড়েছিলেন। এক তালিবান শীর্ষনেতার সাক্ষাৎকার নিয়ে স্পষ্ট প্রশ্ন রেখেছিলেন দেশের মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে। সাক্ষাৎকারে সেই নেতা বলেছিলেন, “শরিয়তের নিয়ম মানলেও, মিডিয়া ও নারীদের অধিকার নিয়ে তারা ভাববেন”।
এ কথা আফগান দখলের সূচনা থেকেই তালিবানরা বলে আসছে কিন্তু ঘটনাক্রম বইছে উল্টোস্রোতে ।

ওই সাক্ষাৎকারের দুদিন পর মালালা ইউসুফজাইয়েরও সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন বেহেস্তা। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা, মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে যিনি ১৫ বছর বয়সে তালিবানদের গুলিতে আহত হন।


এরপরেই চারপাশ থেকে পাওয়া কিছু খবরে বিচলিত হয়ে বেহেস্তার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত। নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওয় বক্তব্য রেখেছেন আরও এক মহিলা সাংবাদিক শবনম দাউরান। যেখানে তিনি স্পষ্টতই বলেছেন –“ আমাদের জীবন সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে”।


শবনম সাংবাদিক হিসেবে ওদেশে জনপ্রিয়। ছ’বছর একটি সরকারি খবরের চ্যানেলে কাজ করে আসছেন । কিন্তু বর্তমানে আইডেন্টিটি কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অফিসে ঢুকতে দিচ্ছেনা কর্তৃপক্ষ। অথচ ওই একই কার্ড নিয়ে তাঁর পুরুষ সহকর্মীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তাহলে তিনি কেন নয়?

সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে দেশে ফিরে ভারতের নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছিলেন ভারতীয় শিক্ষক তমাল ভট্টাচার্য। সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ইসলাম নারী বিরোধী নয়। তালিবানরা নারীদের উদ্দেশ্যে বলেছে আপনারা পড়াশোনা চাকরি সবই করতে পারবেন, কিন্তু একসাথে ক্লাস করতে পারবেননা”।


এই আপাত ইতিবাচক বক্তব্যের আড়ালে কিছু ধোঁয়াশা রয়েই যায়। আমরাও ইসলামবিরোধী নই, তবে শরিয়তের সাথে এই আংশিক সমঝোতা সত্যিই নারীর অধিকার রক্ষা কতটা সুনিশ্চিত করবে, শবনম – বেহেস্তার ঘটনাই সে প্রশ্ন জোরালো করে তুলছে।