PTI11-30-2021-000206A-0_1640368357732_1640368376436

স্তিমিত আন্দোলনের আঁচ। ক্ষতিকর ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে বছর ব্যাপী চলেছিল কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভ ও আন্দোলন। অবশেষে কৃষকদের দাবি অনুযায়ী ৩ আইন প্রত্যাহার করে নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সম্প্রতি নাগপুরের কৃষি প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর আবারো কৃষিবিল ফেরত আনার ইঙ্গিত দিলেন!


আন্দোলনকারী কৃষকদের বড় অংশই উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবের অধিবাসী। তবে কি নরেন্দ্র মোদীর আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনে ভোটব্যাঙ্ক ভরাতেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছিল? স্বভাবতই বিরোধীরা এ প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিন আনুষ্ঠানিক সভায় ভারতের কৃষকদের ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে কার্যত সেই আইন ফেরতের ইঙ্গিত দিয়ে তোমর বলেন, “আমরা কৃষিআইন সংশোধন করেছিলাম।স্বাধীনতার প্রায় ৭০ বছর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কৃষি আইন সংশোধন করা হয়েছিল। কিন্তু কারুর কারুর সেটা পছন্দ হয়নি।”

এভাবেই কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বিভেদরেখা টেনে ‘নির্দিষ্ট কিছু অনিচ্ছুকদের’ আলাদা করে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী তারপরেই বলেছেন, “সরকার হাল ছাড়েনি। আমরা একধাপ পিছিয়েছি। কিন্তু আবার আমরা এগোবো। কারণ কৃষকরাই ভারতের অর্থনীতির মেরুদন্ড।”


কৃষিমন্ত্রী তোমরের এই বক্তব্যেই সন্দেহের আঁচ পেয়েছেন বিরোধী তথা কৃষকপক্ষের সমর্থকরা। কৃষিতে কর্পোরেট পুঁজির বিনিয়োগ নিয়ে বিতর্কিত সেই বিলই কি পুনরায় ফেরানোর ইঙ্গিত করলেন তিনি?

প্রসঙ্গত, কৃষিতে বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৩ আইন কৃষকদেরই স্বার্থে একথা সরকার বোঝানোর চেষ্টা করলেও শেষপর্যন্ত বেঁকে দাঁড়ান পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের অগণিত কৃষক। গত বছরের নভেম্বর থেকে টানা এক বছর দিল্লীর রাজপথে অবস্থান চলেছিল তাঁদের।

 

এই আন্দোলনে মাটি কিছু রক্তাক্তও হয়েছে, এমনকি ঘটেছে মৃত্যুরও ঘটনা। তবুও কৃষকরা আন্দোলনে অনড় ছিলেন। গত মাসে গুরুনানক জন্মজয়ন্তীতে প্রকাশ্যে এই ৩ আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com