VoiceBharat News Ds1 1

বাংলায় রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষ এর মেয়াদ ২০২৩ সাল পর্যন্ত থাকলেও একুশের সেপ্টেম্বরেই তাঁকে অপসারণের পর জল্পনা তুঙ্গে । দিলীপ ঘোষের মতো নেতার অপসারণের ফলে অনেকের মনে দলের ভিতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশে এলেও বিজেপি সূত্রে বলা হয়েছে , এতে দলের ভিতরের কলহের কোনো স্থান নেই । দিলীপের জায়গায় বাংলা বিজেপির সভাপতি করা হল বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে । কিন্তু এই সুকান্ত মজুমদার কে জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে ।

সকলের মনে প্রশ্ন জাগছে সবাইকে ছেড়ে কেনই বা সুকান্তকে রাজ্য সভাপতি পদে বাছা হলো এবং এরম সিদ্ধান্ত কেন নিলেন নরেন্দ মোদি ও অমিত শাহের মতো ব্যক্তিত্বরা ।সুকান্ত মজুমদার অল্প বয়স থেকেই রাজিনীতিতে যুক্ত । ছোট বয়স থেকেই আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত সুকান্ত । পরবর্তী কালে উত্তরবঙ্গে আরএসএসের সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি ।

VoiceBharat News 61cfd5e3 b737 4e1b a16e 84bbaa7a1b21

আরএসএসে তাঁর ভূমিকাই যে তাঁকে এগিয়ে আনতে সাহায্য করে তা অনস্বীকার্য । একটা সময় উত্তরবঙ্গের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত । ফলে উত্তরবঙ্গে সংঘের কাজকর্ম কীভাবে চলছে তা নিয়ে বেশ ওয়াকিবহল ছিলেন তিনি আর তাতেই ঘটে চমৎকার । সূত্রের খবর ,  ২০০৭ সালের পর উত্তরবঙ্গে আরএসএস এর যে বিস্তার ঘটে এবং সেই কার্যে সুকান্ত যে অগ্রণী ভূমিকা নেন তার ফলেই তিনি মোহন ভাগবতের  নজরে চলে আসেন । তাঁর অত্যন্ত আদরের মানুষ সুকান্ত । তাছাড়া এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে  সুকান্ত মজুমদার যেভাবে তাঁর কেন্দ্রে প্রচার করেন , তাতে আরো খুশি হয় বিজেপি নেতৃত্ব ।

সিএএ ও এনআরসি নিয়ে কী ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি ? দলের মধ্যে তিনি বলেছিলেন , সিএএ এবং এনআরসি নিয়ে অনেকের মধ্যে ভয় আছে । তা যদি মেটাতে হয় , তাহলে মাইকে বা সংবাদমাধ্যমে শুধু কথা বললে হবে না । বরং মানুষের দুয়ারে গিয়ে বোঝাতে হবে , নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কিংবা এনআরসি জিনিস কি । এরপর নিজের কেন্দ্রসহ সারা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এনআরসি ও সিএএ নিয়ে সুকান্ত এর প্ৰচারে মুগ্ধ হয়ে উত্তরবঙ্গে এসে তাঁকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অমিত শাহ । এসবের কারণেই যে বাংলার রাজ্য সভাপতির পদে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে তা বলা হয়েছে ।

যদিও বিজেপির এক অংশের কথা , দলের মধ্যে যে গোষ্ঠী রয়েছে সে অনুযায়ী দেখতে গেলে সুকান্ত আসলে দিলীপ ঘোষদের লোক । দিলীপ ঘোষের পর পরবর্তী সভাপতি হিসেবে যে লিস্ট চেয়েছিলো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই লিস্টে সুকান্তর নাম রেখেছিলেন দিলীপ ঘোষ । চমৎকার তথ্য , রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর সম্পর্কে ভাইপো হন সুকান্ত ।

আরেক তথ্য বলছে , যেহেতু উত্তরবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করে বিজেপি এবং বিধানসভা নির্বাচনেও সেই ধারা অনেকটা ধরে রাখতে পেরেছে গেরুয়া শিবির । সেই কারণে দলের অনেকের দাবি ছিলো , নতুন রাজ্য সভাপতি উত্তরবঙ্গ থেকে করা হোক । তাই মনে হচ্ছে দলের সেই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়েই সুকান্তকে রাজ্য সভাপতি পদে বসালো বিজেপি নেতৃত্ব ।