VoiceBharat News IMG 20211117 193929

এবার প্রবীর ঘোষালের পালা। বিজেপির বিরুদ্ধে মনে জমা সমস্ত ক্ষোভ তিনি উগরে দিলেন, কোথায়? না কোনো সভার বক্তৃতা মঞ্চে নয়; লিখিত ভাবে জানালেন তৃণমূলের মুখপত্র-র উত্তর সম্পাদকীয়তে। যে লেখাটির শিরোনাম ‘কেন বিজেপি করা যায়না’।

VoiceBharat News 1637128756 prabir ghosal


বুধবার তৃণমূলের মুখপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এই লেখায় বিজেপি নেতা প্রবীর ঘোষাল শুরুতেই জানান, “ওখানে কাজ করার চেয়ে টাকা চাওয়ার লোক বেশি”। এরপর বিন্দু বিন্দু অক্ষররেখায় একের পর এক তুলে ধরেছেন বিজেপি দলের প্রতি জমে ওঠা ক্ষোভ ও অভিমান।


বলা বাহুল্য, প্রবীর ঘোষালও তৃণমূল ছেড়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৬-য় উত্তরপাড়া থেকে জেতা এই তৃণমূল বিধায়ক ২০২১-এর পাল্টি হাওয়ায় সাড়া দিয়ে যথারীতি অন্যদের মতোই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে উত্তরপাড়া কেন্দ্রেই প্রার্থী করে। কিন্তু এবার তৃণমূল প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিকের বিরুদ্ধে তিনি হেরে যান। এরপরেই কি বিজেপির প্রতি বিক্ষুব্ধ তিনি! না, প্রবীর লিখছেন অন্য কথা।

VoiceBharat News images 2021 11 17T194115.608


এই লেখায় প্রবীর ঘোষাল জানিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করার সময় থেকেই বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বের শিকার হন। প্রবীরকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর ব্যাপারটা বিজেপির অনেক নেতাই ভালো চোখে নেননি। এছাড়াও ‘বিজেপির হিন্দিভাষী পর্যবেক্ষকদের’ বিরুদ্ধ দৃষ্টির কথাও তিনি জানিয়েছেন এই লেখায়। এরপরে যথারীতি পরাজিতদের সাথে যে আচরণ বিজেপি করে থাকে, প্রবীরের বেলাও তাই হয়েছে!

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই উচ্চ নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়। এমনকি তাঁর মায়ের মৃত্যুকালেও বিজেপির কোনও নেতাকর্মী খোঁজ পর্যন্ত নেননি! প্রবীর জানাচ্ছেন, সেই দুঃসময়ে ছেড়ে আসা দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সহানুভূতি জানিয়ে বার্তা পাঠান। চোখ খুলে যায় তৃণমূল ত্যাগী নেতার। বিষাদ গ্রাস করে তাকে। অনুশোচনায় জ্বলতে থাকে মন। লেখার ছত্রে ছত্রে সেই যন্ত্রণা ফুটিয়েই তিনি লিখেছেন ‘কেন বিজেপি করা যায়না’। তৃণমূলের মুখপত্রে এই লেখা প্রকাশের পরেই শোরগোল উঠে গেছে রাজনৈতিক মহলে।

VoiceBharat News IMG 20211117 194305


তবে কি তিনি বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন? উত্তরে প্রবীর জানিয়েছেন, “বিজেপিতে কোথায় কিভাবে আছি নিজেই জানিনা। ভোটের আগে আমায় রাজ্য কমিটির সদস্য করেছিল। ভোটের পর দুএকটা বৈঠকে ডেকেছিল। তারপর থেকে আর কোনো শীর্ষস্থানীয় নেতা যোগাযোগ করেননি”। প্রবীর বাবু খোলাখুলি সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, “নির্বাচনের পর থেকেই মানসিকভাবে আমি বিজেপিতে নেই”।


এরপরই যে সম্ভাবনা উঠে আসে, তৃণমূলে ফেরার, সেবিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেননি প্রবীর ঘোষাল। তবে এই লিখিত বয়ান প্রকাশের পর বিজেপিতে আর যে তিনি থাকতে পারবেননা সেটা পরিস্কার। পাশাপাশি নিজের সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা দিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য তিনি দিয়েছেন। প্রকাশ্যেই বলেছেন, “শুভেন্দুকে বিজেপির অনেক পুরোনো কর্মীই সহ্য করতে পারেনা। হাওড়ার ঘটনাতে তা বেরিয়ে পড়েছে। এইরকম দলে ও কতদিন থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে”।

VoiceBharat News IMG 20211117 193625


বিক্ষুব্ধ এই বিজেপি নেতার সাথে তৃণমূলের সাথে আন্তরিক যোগাযোগ এখনও অক্ষুণ্ন, তারই মধ্যে যে ইঙ্গিত তিনি দিলেন তাকে কোনোভাবেই হাল্কা ভাবে নেওয়া যায়না বলেই অনেকে মনে করছেন।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com