আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

বিজেপির শেষ অস্ত্র : বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া চিঠি

Current India Features Politics

ভবানীপুরের ভোট প্রচারে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেয়াল বারবারই বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। উল্লেখ্য, শুধু তৃণমূল কর্মী নয়, এলাকার মানুষের একাংশও স্বতস্ফুর্তভাবে বাধা সৃষ্টি করেছেন। কখনো মমতার নামে শ্লোগান, কখনো সরাসরি তৃণমূলের ঝান্ডা প্রদর্শন। এবার শেষ মূহুর্তে তাই একটাই অস্ত্র প্রয়োগ করল বিজেপি। ভবানীপুরের বাড়ি বাড়ি চিঠি পাঠাচ্ছে তারা।

এই চিঠি আসলে ভোটপ্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেয়ালের আবেদনপত্র। ভোট চাওয়া তো বটেই, কেন ভোট দেবেন তার সপক্ষে যুক্তি খাড়া করে মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে কিছু বয়ান লেখা হয়েছে, যা পড়লে মানুষ অনেকটাই প্রভাবিত হবেন বলে মনে করছে বিজেপি শিবির।

আবেদন পত্র বা ছাপানো চিঠি – চিরকুট দেওয়ার রীতিটা সিপিএম জমানা থেকেই চালু হয়েছিল। বহু দলই সেটা করে থাকেন। তৃণমূলও তাদের আবেদনপত্র মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। তবে প্রচারে বাধাপ্রাপ্ত বিজেপির একেবারে শেষ মূহুর্তে পাঠানো চিঠিটাকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানুষকে খেপিয়ে, কিছুটা জোর করেই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

চিঠিতে বোঝানো হয়েছে – এই ভোটে সরকার পরিবর্তন না হলেও মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন হবে, যেটা রাজ্যের দুর্নীতি রুখতে আজ অত্যন্ত জরু‌রি। “পরিবর্তনের ভোট নয়, কিন্তু আপনার একটি ভোট পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দুর্নীতির ভোগান্তি একটু হলেও কমাবে”।


(চিঠির ভাষা লক্ষনীয়) এখানে ‘দুু্র্নীতি’ শব্দটার সাথে সরাসরি ‘মুখ্যমন্ত্রী’কেই জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যার পরিবর্তন হলে দুর্নীতি ‘একটু’ হলেও কমবে! পুরোপুরি যে নয়, সেটা প্রিয়াঙ্কাদেবীও জানেন!


‘শাসক দলের’ দুর্নীতির মূলে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সেটাকেই রাখা হয়েছে আবেদন পত্রের বক্তব্যে। সবশেষে প্রিয়াঙ্কার আবেদন — ‘মুখ্যমন্ত্রী ভোটে জিতলে ভবানীপুরের মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবেন।কিন্তু প্রিয়াঙ্কা জিতলে মানুষের পাশেই থাকবেন ‘।


এই চিঠি প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় পরিকল্পনা করেছে বিজেপি, যদিও তার জন্য সময় আর বেশি নেই। তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের কাছেও এই চিঠি পৌঁছে যাবে, ইতিমধ্যে গেছেও।
যে তৃণমূল সমর্থক বিজেপির লিফলেট নিতে অস্বীকার করেছিলেন, তার হাতে চিঠিটা পৌঁছালো কিনা জানা নেই। জানা গেলে খানিকটা আন্দাজ পাওয়া যেত, ভবানীপুরের ইভিএমে ৩০ তারিখ কী হতে চলেছে!