আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

বেহালার পর্ণশ্রীতে মা-ছেলে খুুন: তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Current India Features

বেহালার পর্ণশ্রীর এক আবাসনে গতকাল জোড়া খুন।  মিলল মা ও ছেলের গলা কাটা রক্তাক্ত দেহ। পাশাপাশি দুটি আলাদা ঘরে দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রহস্য ক্রমশই ঘনীভূত হচ্ছে। উঠে আসছে ঘনিষ্ঠ কারোর খুনে জড়িত থাকার সম্ভাবনা।

খুনের সময় মা ও ছেলে ঘরেই ছিল। ১৩ বছরের ছাত্র তমোজিতের  পরনে ছিল স্কুল ইউনিফর্ম । ফলে সেসময় তার অনলাইন ক্লাস চলছিল বলে অনুমান করা হয়। ছেলেটির স্কুলে যোগাযোগ করেছে পুলিশ। সেখানেই পাওয়া গেল খুনের সময় সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য।

বেহালার জেমস্ লঙ সরণীর ওরিয়েন্ট স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন গতকাল নির্ধারিত ৫ টা ক্লাস তমোজিত করেনি। স্কুলের দেওয়া সিডিউল অনুযায়ী প্রতিদিন ১১:০০টা থেকে ৪:০০টে পর্যন্ত ৫টি করে ক্লাস হত, মাঝখানে ছিল দশ মিনিটের ব্রেক।

গতকাল ১১:০০ টা থেকে মোট চারটি ক্লাস করলেও শেষ ক্লাস, অর্থাৎ বায়োলজি ক্লাসটি তমোজিত করেনি। তার আগেই ৩:১১ নাগাদ সে আচমকা অফলাইন হয়ে যায়। কেন এই আচমকা ডিসকানেক্ট হয়ে যাওয়া? ফলে এই সময়টাতেই খুন করা হয় বলে সন্দেহ।

কাছাকাছি অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা কিছু টের পাননি বলেই জানান। সিসিটিভি খারাপ থাকায় কোনো ভিডিও  ফুটেজও মেলেনি। প্রশ্ন, আততায়ী কি তাহলে জানত এই সিসিক্যামেরা খারাপের খবর? প্রতিবেশিদের মত অনুসারে জানা যায় তমোজিতের মা সুস্মিতা মন্ডল ভীষণই সতর্ক ছিলেন। আইহোল দিয়ে না দেখে দরজা খুলতেন না। স্বভাবতই জোরালো হয়েছে প্রশ্ন – তাহলে কি পরিচিত কেউ এসেছিল?


সন্দেহের তীর মৃতার স্বামী তপন মন্ডলের দিকে। বেসরকারী ব্যাঙ্কের কর্মচারী ছিলেন তপন। খুনের সময় তিনি অফিসে ছিলেন বলে জানালেও, তথ্য ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে দুপুর থেকে প্রায় ২ ঘন্টা তপনবাবুর মোবাইল ফোন সুইচড অফ ছিল। এছাড়াও আর কাদের সাথে তিনি কী কী কথা বলেছেন সেসব জানার জন্য তাকে আটক করেছে পুলিশ।
আততায়ী একা একজন ছিলনা বলেই  অনুমান। কারণ দুটি ঘরে ক্ষতবিক্ষত দেহ ছাড়া সারা ফ্ল্যাটে ধ্বস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

স্ত্রী বা সন্তানের মৃতদেহ স্পর্শ করেননি একথা জানালেও পুলিশ সূত্র অনুযায়ী তপন মন্ডলের আংটিতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় কথা বেশ সময় নিয়ে হিসেব কষে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। খুন করার পর খুনী বা খুনীরা এই ফ্ল্যাটের বাথরুমেই স্নান সেরেছে, সম্ভবত প্রমাণ লোপাটের জন্য। জলের পাইপলাইন ঘেঁটে স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক ডিপার্টমেন্ট।
ফ্ল্যাট থেকে কিছু গয়না, চাবি ও মোবাইল ফোন খোয়া গেছে বলে তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন।
তাহলে কি এইজন্যেই খুন?

কিন্তু প্রশ্ন আসছে #চাবি খোয়া যাবে কেন?


খুনের মোটিফ আরও তদন্ত সাপেক্ষ। এই মূহুর্তে স্বামী তপন মন্ডলের খাপছাড়া কথা, ও প্রতিবেশিদের বয়ান খুনের তদন্তকে ক্রমাগত জটিল করে তুলছে। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে।