আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

ভবানীপুরের উপনির্বাচন: এক নজরে

Current India Features Politics

গতকাল৩০ সেপ্টেম্বর হয়ে গেল তৃণমূল- বিজেপির রণংদেহী ভবানীপুর উপনির্বাচন। এদিন শামসেরগঞ্জ ও জঙ্গীপুরেও নির্বাচিত ছিল। তবে পাখির চোখের মতো সকলেরই স্থির দৃষ্টি আটকে ছিল ভবানীপুরের দিকে। কেননা এটা নিছকই ভোট নয়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রেস্টিজ জড়িয়ে এই নির্বাচনের সাথে, আর প্রিয়াঙ্কা টিব্রেয়াল!  মমতাকে গদিচ্যুত করতে পারলেই তরতরিয়ে রাজনৈতিক উথ্থান। 

এমনকি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন এই নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম’ বলেও ট্যুইটারে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এই নির্বাচনে মানুষের সাড়া মিলল কি?

খবর সূত্র অনুযায়ী আশানুরূপ ভোটার ভোট দিতে এলেনই না। ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে এবার ভবানীপুরে। সেই তুলনায় বিগত বিধানসভা নির্বাচন বা উপনির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।


সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায়, ট্যুইটারে  শান্তনু সেন, মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম সহ অনেক তৃণমূল নেতাই ভবানীপুরের মানুষকে উজ্জীবিত করতে চেয়েছেন — অনুরোধ করেছেন ভোট দিতে যাবার জন্য। বিজেপি প্রার্থী ভোর থেকেই ভোট কেন্দ্রে নিজে হাজির ছিলেন। তা সত্ত্বেও যে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোট দিতে আসার কথা ছিল, তার থেকে কম সংখ্যক লোক ভোট দিতে এসেছেন। সম্ভবত এই উপনির্বাচনের গুরুত্ব সকলে সঠিকভাবে বোধগম্য করতে পারেননি। তবু ভোট হয়েছে। ওই ৫৩ শতাংশ ভোটেই যা কিছু সিদ্ধান্ত হওয়ার তাই হবে।

সকালে শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেলা বাড়তেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেয়াল বুথ জ্যামের অভিযোগ জানান তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এছাড়া ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এলাকায় ঘুরে জোর করে মানুষকে প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে। যদিও  নির্বাচন কমিশন ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে প্রমাণ তলব করেন। এরপর দুপুরে খালসা হাইস্কুলে ভূয়ো ভোটার সন্দেহে অভিযোগ করেন বিজেপি প্রার্থী, সেই নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এক দফা ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়।

এছাড়া বহিরাগত সন্দেহ করে পদ্মপুকুরে কল্যাণ চৌবের গাড়ি ভাঙচুর করে তৃণমূল কর্মীরা, যদিও কমিশনের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত হয় এই ঘটনার সাথে কোনোরকম রাজনৈতিক যোগ নেই। দুপুর তিনটে নাগাদ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ভোট দিতে আসেন। একটিও কথা না বলে ৩ মিনিটের মধ্যে ভোটদান সেরে চুপচাপ বেরিয়ে চলে যান।


বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেয়ালের দফায় দফায় অভিযোগ ও তাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ও ঝামেলা ছাড়া ভবানীপুরের ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই সমাপ্ত হয়েছে বলা যায়। ভোটার সংখ্যা সীমিত, তবুও সেই সংখ্যা গণনা করেই যা কিছু বিচার হবে। এখন ফলাফলের অপেক্ষা।