IMG_20211201_210838

দলের নামে ডোনেশানের বিল ছাপিয়ে , তার ওপর অশোক স্তম্ভের শিলমোহর লাগিয়ে দেদার টাকা তোলা চলছিল শিলিগুড়িতে। ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু, সম্পূর্ণ আকাশ থেকে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব জানান এটা তাঁদের কাজ নয়। পাল্টা বিজেপির দিকে আঙুল তুলে থানায় অভিযোগ জানায় তৃণমূল। যদিও বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ দাবি করেছেন, এটা তৃণমূলেরই কাজ। এখন বিষয়টি সামনে আসায় তারা ধামাচাপা দিতে বিজেপির দিকে অভিযোগ ছুঁড়ছে।


শিলিগুড়ির বেশ কিছু এলাকায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে ডোনেশানের বিল ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫,০০০ এমনকি ১০,০০০ টাকা করে তুলছিল একদল যুবক। কিন্তু অশোকস্তম্ভের ছবিটি কারো কারো মনে গভীর সন্দেহের উদ্রেক করে। তৃণমূল নেতারা বলছেন এই জাল বিল তাঁদের তৈরি নয়। তৃণমূলকে বদনাম করতে বিজেপিই এই কাজ করেছে।


তৃণমূলের দলীয় মুখপত্রের বয়ান অনুযায়ী, “উত্তরবঙ্গে পায়ের তলায় বিজেপির মাটি সরছে। তাই রাজনৈতিক ভাবে না পেরে একের পর এক দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে তারা”।


ওই স্লিপে উল্লেখ ছিল, “পুর নির্বাচনের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে।” শুধু তাই নয়, ডোনেশান স্লিপের নিচে রয়েছে তৃণমূলের ‘ভাইস প্রেসিডেন্টের’ সই। অথচ ওই জেলায় তৃণমূলের কোনও ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ নেই বলেই দাবি করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অলোক চক্রবর্তী।


এই পুরো ষড়যন্ত্রটাই বিজেপির দুর্নীতি চক্রের কাজ বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরেই স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা ভক্তিনগর থানার দ্বারস্থ হন। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত স্বরূপ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন।


উল্টোদিকে, শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, “তোলাবাজি তৃণমূলের পুরোনো অভ্যেস। বিষয়টা সবারই জানা। সামনে পুরভোট। এখন ধরা পড়ে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ আঁচ করতে পেরে নিজেরাই থানায় হাজির হয়ে সাজানো নাটক করছেন তৃণমূল নেতারা। মানুষ সবই জানেন।”
কারা সত্যি বলছেন? একমাত্র স্বচ্ছ তদন্তই এর উত্তর দিতে পারে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com