কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

মমতাকে এক হাত নিলেন অধীর চৌধুরী

Current India Features Politics

বহু ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ সমালোচনা করে থাকেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। সেকারণেই সম্ভবত নানা ইস্যুতে মধ্যস্থ হওয়ার জন্য দক্ষিণপন্থী জাতীয় নেতৃত্ব অধীরকে ভরসা করে থাকেন। সেটা কংগ্রেস-সিপিএম সমঝোতাই হোক বা মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত। তবে যে অধীর চৌধুরী প্রথম বলেছিলেন উপনির্বাচনে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিতে সেই অধীরই এবার মমতাকে লক্ষ্য করে তীব্র ভর্ৎসনা করতে ছাড়লেন না। কড়া কথার মধ্যেও মিশে রইল খানিক অভিমানের সুর।


প্রসঙ্গত, উপনির্বাচন হওয়ার ঠিক পরে পরেই তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলায়’ কংগ্রেসকে ন্যক্কারজনক আক্রমণ করা হয়েছিল। এর উত্তরেও সনিয়া গান্ধী নীরব ছিলেন। তবে সেই নীরবতার মধ্যে যে ঝড় লুকিয়ে ছিল, সেটাই এবার আছড়ে পড়ল অধীর চৌধুরীর বক্তব্যে।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মমতা ব্যানার্জী কিছুদিন আগেও সনিয়ার সাথে বৈঠক করেছিলেন। আর উপনির্বাচনে ভবানীপুরে নিরঙ্কুশ ভোটে (যেখানে কংগ্রেসের ভোটও মিশে ছিল) বিপুল জয়লাভের পরেই বঙ্গ নেত্রী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ ঝাড়তে শুরু করেন। দেশের বৃহত্তর জাতীয় দলকে অসম্মানের ভাব দেখিয়ে নিজেকেই কংগ্রেসের একমাত্র উত্তরসূরী হিসেবেও দাবি করেন মমতা। সেসব প্রসঙ্গেরই পাল্টা উঠল এবার কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে খাওয়ার অভিযোগ।


উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই সুস্মিতা দেব সহ উত্তর প্রদেশের একাধিক নেতাকে তৃণমূলে টেনে নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। সেই তালিকায় গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। দল ভাঙানো চলছেই, আর এসব কিছুই সগর্বে ঘোষণা করে মমতা বোঝাতে চাইছেন — বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে তিনিই একমাত্র নেতৃত্ব, কংগ্রেস যদি থাকতে চায় তবে লেজুড় হিসেবেই থাকতে হবে। মুখপত্রের সম্পাদকীয় থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে ও আচরণে তৃণমূলের এই মনোভাব স্পষ্ট।

অথচ, দিল্লীর এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুস্মিতা দেব ও সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, “বিরোধী জোট গড়তে সনিয়া গান্ধী সক্রিয় নন, তাই তৃণমূল একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে”। এছাড়াও সম্প্রতি কানহাইয়া কুমারের কংগ্রেসে যোগদান নিয়েও কটুক্তি করা হয়েছে।


এই সমস্ত আচরণের প্রত্যুত্তরেই এবার মুখ খুলেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, “মমতা ব্যানার্জী নিজে কেন বলছেননা, আমি কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা করেছি?” এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের বাকি সব নেতাদের “দালাল” বলে চিহ্নিত করে “তৃণমূলের খুদকুঁড়ো খেতে ব্যস্ত” বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

এরপরই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অধীরের গলায় অভিমানের সুর শোন যায়। অধীর বলেছেন, “আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি মমতাকে খুব স্নেহের চোখে দেখে গান্ধী পরিবার। মমতার প্রতি কংগ্রেসের তাবড় তাবড় নেতাদের খুব ভালো ধারণা রয়েছে। বাংলার আদর্শ এক নারী হিসেবে মমতাকে দিল্লীর নেতারা দেখতেন। এখন মমতার কীর্তিকলাপ দেখে তাঁরাও অবাক হয়ে যাচ্ছেন”।


অধীর চৌধুরীর এই বক্তব্য কি কংগ্রেস -তৃণমূল চিড় ধরা সম্পর্কে মলম লাগাতে পারবে? এই মানভঞ্জন পালায় কী উত্তর দেন তৃণমূল নেত্রী, সেটাই এখন দেখার।