আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

sabiya saifi

মহিলা পুলিশ কে নৃশংস গণধর্ষণ ও খুন: এবার শিকার ২১ বছরের সাবিয়া

Current India Features

এই মাসের শেষেই দিল্লীতে ঘটে গেল এতবড় একটি নারকীয় গণধর্ষণ ও নারীহত্যার ঘটনা, ভাবলে শিউরে উঠতে হয়, অথচ তদন্ত এত শিথিল কেন? সবচেয়ে অবাক লাগছে বড় বড় মিডিয়া হাউসগুলো এ ব্যাপারে একেবারেই চুপ!

হ্যাঁ জেনে নিন ৯ দিন আগে দিল্লীর সঙ্গম বিহারে ঘটে যাওয়া নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কথা। যেখানে একটি ২১ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণ করে নির্মম শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে হত্যা করেছে পুরুষরূপী কিছু শয়তান যাদের পশুর সাথে তুলনা করলে পশুদের অপমান করা হয়। শুধু তাই নয়, গোটা ব্যাপারটায় দিল্লি প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন ভূমিকা আছে বলেও জানা যাচ্ছে।

sabiya saifi


২১ বছর বয়সী সাবিয়া সইফি (ডাকনাম রাবেয়া) সিভিল ডিফেন্সে চাকরি করত।  মাত্র ৪ মাস আগেই কর্মজীবন শুরু হয়েছিল তার।
২৬ আগস্ট হঠাৎ নিরুদ্দেশ হওয়ায় চিন্তায় ছিল পরিবারের সকলেই। এ অবস্থায় মেয়েটির এক সহকর্মী জানায় – পুলিশ কোনো একটা কেসের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে সঙ্গে করে হরিয়ানা নিয়ে গেছে! স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে কী এমন তদন্ত যার জন্য এতদূর তাকে নিয়ে যেতে হল?
এরপরই খোঁজ শুরু হয়, বা বলা ভালো খোঁজ করার নামে একটি তামাশা শুরু হয়। যে নাটকের চিত্রনাট্য সম্ভবত আগেই লেখা ছিল!
সুদূর হরিয়ানার সুরযকুন্ড পালি রোডের এক ধারে রাস্তা থেকে ১৫ ফুট নিচের ঝোপ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই দেহ যখন উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়,  তাকে দেখে মেয়েটির মা অজ্ঞান হয়ে যান। ভয়ে কেঁপে ওঠে তার ভাই এবং পাড়া পড়শিরা। গলার ভেতর ছুরি দিয়ে কোপানো, স্তন কেটে ফেলা,  ছুরির আঘাতে ফালা ফালা দেহটা বর্বতার চরম নিদর্শন! “যৌনাঙ্গেও তীব্র ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে” বোন সম্পর্কে একথা বলতে গিয়ে কথা হারিয়ে ফেলছে তার ভাই , সেখানে যারা এই কাজ নিজে হাতে করেছে তারা কি মানুষ? এ কোথায় বাস করছি আমরা?
কিন্তু এতবড় ঘটনাটা ঘটানোর পরেও মূল অপরাধীরা নাগালের বাইরে।

এবার সেই চিত্রনাট্য যার কথা বলা হয়েছে আগেই। পুলিশের কাছে নাকি সাথে সাথেই আত্মসমর্পণ করেছে নিজামউদ্দিন নামের একটি লোক, যে কিনা নিজেকে সাবিয়ার স্বামী বলে পরিচয় দিয়েছে! এবং সমস্ত দায় নিজের কাঁধে নিয়ে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাবার চেষ্টা করেছে। কারণ হিসেবে দেখাতে চেয়েছে তার স্ত্রী দুশ্চরিত্রা ছিল। সে কারণেই স্ত্রীকে অপহরণ করে বাইকে চাপিয়ে সে পালি রোড নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে! লাশ উদ্ধারকারী পুলিশের বয়ান অনুযায়ী-  ওই স্পটেই লোকটি আইনের হাতে ধরা দিয়েছিল।


যেখানে সকলেই জানে এবং পরিবারেরও দাবি, সাবিয়া অবিবাহিতা। লোকটাও স্বামী হিসেবে কোনো পরিচয় পত্র দেখাতে পারেনি। সুতরাং ব্যাপারটা তরন্ত সাপেক্ষ। প্রশ্নটা এখানেই উঠছে।
একটা ফেক তদন্ত চালিয়ে আসল তদন্ত এড়াবার এটা প্রশাসনিক কৌশল নয় তো! সাবিয়া যখন পুলিশের সাথেই পালি রোড গেছিলো তখন এমন ঘটনা ঘটল কীকরে?

মৃত্যুর কিছুদিন আগে সাবিয়া তার বাবাকে জানিয়েছিল তাদের ডিএম অফিসে একটি গোপন লকআপ আছে, যেখানে কোটি কোটি টাকা আদান প্রদান চলে। তাহলে কি এমনই কোনো প্রশাসনিক দুর্নীতি চক্রের লেনদেনের সাক্ষী হয়ে গেছিলো এই ২১ বছরের তরতাজা সিভিলিয়ান? যার মাশুল দিতে হল তাকে?

পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করা এই মেয়েটি আমাদের সমাজের মেয়েদেরও গর্ব। আর আজ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও দুর্নীতির শিকার হয়ে গেল সেই। দোষীদের শাস্তি নাহলে প্রকাশ্যে আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়েছে মেয়েটির পরিবার। আমরা কি এখনও চুপ থাকবো? নাকি অনেকের সাথে মিলিয়ে আওয়াজ তুলবো স্বচ্ছ তদন্তের!