আমাদের Telegram এ ফলো করুন সবার আগে সর্বশেষ আপডেট পান Click Here

Google News এ ফলো করুন Click Here

মা কালীর প্রসাদে ন্যুডলস!

Current India Features

শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। খাস কলকাতার বুকেই এমন নিদর্শন রয়েছে।

ট্যাংরায় চায়না টাউন এলাকার কাছে রয়েছে এক কালী মন্দির, যা ‘চিনা কালীবাড়ি’ নামেই খ্যাত। ওই মন্দিরে নিয়মিত প্রসাদ হিসেবে ন্যুডলস নিবেদন ও ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অবশ্যই তা নিরামিষ, আমিষের কোনো জায়গা সেখানে নেই।


সব পূজোতেই প্রসাদ নিবেদনের রকমারি ধরণ রয়েছে। বাংলায় যেমন ফল, মিষ্টি, তেমনই উত্তর ভারতে প্রসাদের থালায় লাড্ডু বা হালুয়া বিশেষ জায়গা নিয়ে থাকে। কিন্তু ন্যুডলস! এ ধারা সত্যি অভিনব। এবং তা চলে আসছে বহুদিন ধরে।


তথ্যসূত্র অনুসারে ট্যাংরার এই ‘চিনা কালীবাড়ি’ প্রায় ৬০ বছরেরও বেশি প্রাচীন। ১৯৩০ সালে চিনের গৃহযুদ্ধের সময় দেশ থেকে বিতাড়িত বেশকিছু মানুষ কলকাতার ট্যাংরা এলাকায় এসে বসবাস শুরু করে। সেসময়ে এদের জীবিকা চামড়া তৈরির কাজ হলেও, পরবর্তীকালে এদেরই এক অংশ রান্নাবান্নায় চলে আসে – যাদের ঘিরেই ইন্দো-চাইনিজ খাবারের আকর ‘চায়না টাউন’ সুবিস্তৃত হয়। এই কালীমন্দিরও তাদের তৈরি। মন্দির তৈরির পেছনে একটি কাহিনী রয়েছে।


শোনা যায়, সে সময় এক চিনা দম্পতির সন্তান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কোনও ডাক্তারের চিকিৎসাই কাজ দিচ্ছিলনা। নিরূপায় ওই স্বামী স্ত্রী একটি গাছতলায় রাখা দুটি পাথরের ওপর হত্যে দিয়ে পড়েছিলেন। তারপরই ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে সন্তান। শক্তির ওপর বিশ্বাস জন্মায় বৌদ্ধ দম্পতির। তাদের বিশ্বাসকে ভিত করেই চিনাপাড়ায় তৈরি হয় কালীমন্দির। ওই পাথর দুটি আজও মন্দিরে রাখা আছে।

শুধু প্রসাদে চিনা খাবার নয়, এই মন্দিরের নিত্য সেবকও এক চিনা পুরোহিত।

হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত হয়ে তিনি পূজার ভার নেন। তবে কালীপূজো বা অন্য বিশেষ তিথিতে হিন্দু পুরোহিতরাও এসে যোগ দিয়ে থাকেন। আরও বড় কথা, হিন্দুরা ছাড়াও প্রচুর বৌদ্ধ এবং খ্রীষ্টানরাও নিয়মিত এসে এখানে দেবীকে আরতি করে যান! হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টের আশ্চর্য এক মিলন স্থান এই ‘চিনা কালীবাড়ি’।