IMG_20211208_082807

আত্মপক্ষ সমর্থনে এবার মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। সোশ্যাল মাধ্যমে একটি ভিডিও মারফত বক্তব্য রাখতে গিয়ে সবার আগে তিনি সম্পূর্ণ অভিযোগটাকেই একেবারে উড়িয়ে দেন! যে অন্যায় আচরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিলেন, যে অপরাধের ভিত্তিতে পদত্যাগ পত্র ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দিয়েছেন মুরাদ হাসান, তার সাপেক্ষে লাইভ ভিডিওয় এসে সেই অভিযোগ নস্যাতের চেষ্টা হাস্যাস্পদ মনে করেছেন অনেকেই।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহির সাথে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের একটি পুরোনো ফোন রেকর্ডিংয় ফাঁস হয়েছে। যে অডিওয় বাংলাদেশের নায়িকা মাহিয়া মাহি, নায়ক ইমন ও বিপরীতে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান রয়েছেন। এই অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর সাথে সাথে প্রবল সমালোচনার ঝড় তুলে বাংলাদেশের রাজনীতিকেও অশান্ত করে তুলেছে।
একজন সম্ভ্রান্ত মহিলাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি যে নোংরা কুরুচিপূর্ণ ভাষায় তিনি ধর্ষণের হুমকি দিয়েছেন তা উচ্চারণ যোগ্য নয়।

এই অডিওর সত্যতা একরকম প্রমাণ হয়ে গেছে বলেই অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এবং আইনজীবিরা নিশ্চিত, এদিন লাইভে এসে মুরাদ হাসান সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি বাংলাদেশের গণ প্রজাতন্ত্রের অধীনস্থ তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী। আমি আমার কন্যাসম একটি মেয়ে সম্পর্কে এমন আচরণ করতেই পারিনা!”

ফাঁস হয়ে যাওয়া ভাইরাল অডিওতে এই মন্ত্রীই নিজেকে “প্রজাতন্ত্রের চাকর” বলে জাহির করে ‘কন্যাসম’ অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে খোলাখুলি “রেপ” করার হুমকি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একাধিক সভামঞ্চে বা রাজনৈতিক বৈঠক থেকে প্রকাশ্যেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে নোংরা কটূক্তি করেছেন, গালিগালাজ করেছেন খালেদা জিয়ার পুত্রের উদ্দেশ্যে। খোলাখুলিভাবে নিজের মুখেই বলেছেন, “আপনারা যা মনে করার করুন, যা হবার হয়ে যাক, আই ডোন্ট কেয়ার!” সেই মুরাদ হাসান অডিও ফাঁস হবার পর, লাাইভে এসে গণ প্রজাতন্ত্রের জয়গান গেয়ে বলতে চাইছেন– এমন আচরণ করা তো দূর, তিনি নাকি এমন ভাবতেই পারেননা! শুনে আশ্চর্য হচ্ছেন অনেকেই।

 

এখানেই শেষ নয়, নিজের প্রতি ন্যক্কারজনক অভিযোগ ঢাকতে সরাসরি তিনি জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে এনেছেন! বলেছেন, “যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন এসব তাদের চক্রান্ত।”
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর এই উক্তিতে বিস্মিত হচ্ছেন বিভিন্ন মহল। অপ্রকৃতিস্থের মতো উদ্ভট প্রসঙ্গ জুড়ে আসলে তিনি কী প্রমাণ করতে চাইলেন, তা ঠিক পরিস্কার নয় বলেই সকলের মত।

‘সময় টিভি নিউজের’ প্রতিবেদন সূত্রে মুরাদ হাসানের একাধিক কুমন্তব্যের উদাহরণ পাওয়া গেছে। এমনকি সম্প্রতি ফাঁস হওয়া অডিওটি শুনে স্বাভাবিক ভাবেই মনে হয়েছে মন্ত্রী মুরাদ হাসান নেশাগ্রস্ত, বেসামাল অবস্থাতেই অশালীন ফোনালাপ চালিয়ে গেছেন।

 

এদিনের লাইভ ভিডিও করার সময়ে তিনি কোনওরকম নেশা করেছিলেন কিনা সঠিক বোঝা না গেলেও, কথাবার্তার মধ্যে প্রচুর অসংলগ্নতা ধরা পড়েছে। তবে ‘ধান ভানতে শিবের গীত’-এর মতো স্বাধীনতা সংগ্রাম, শেখ মুজিবের আদর্শ এবং পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে শেষমেশ যেটা বোঝাতে চেয়েছেন তা হলো– যারা খুব ভালো ফটোশপ বা এডিটিং জানে এসব তাদের দিয়েই করানো, এবং বিশাল এক সাসপেন্স তৈরি করে তিনি বলেছেন “বিরাট এক বলয়” তাঁর বিরুদ্ধে নিরন্তর চক্রান্ত করেই চলেছে।

প্রসঙ্গত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান নিজের পদত্যাগ পত্রেও অসংলগ্ন কথাবার্তা লিখেছেন বলে ইতিমধ্যে দাবি তুলেছেন অনেকে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com