VoiceBharat News IMG 20211208 125359

সিসিটিভি। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর জীবনের এক প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। আশপাশের সমস্ত ঘটনার চলমান দৃশ্যের রেকর্ড ধরে রাখে এই প্রযুক্তিগত পাহারাদার। কিন্তু কোথাও কি এই নজরদারির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সুরক্ষায় হস্তক্ষেপ ঘটছে? সম্প্রতি তেমনই বিতর্ক সৃষ্টি হল বোলপুরের একটি শিক্ষাকেন্দ্রে।

VoiceBharat News ei samay 4


পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা এক শিক্ষিকা তাঁর কর্মক্ষেত্রেই সিসিটিভির প্রয়োগ নিয়ে একটি গুরুতর অভিযোগ জানিয়েছেন। বোলপুরের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন তিনি। টিচার্সরুমে সিসিক্যামেরা বসানোর বিরোধিতা করে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন স্কুলেরই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শিক্ষিকার মতে, স্কুলের প্রধানশিক্ষক তাঁর ক্যামেরাবন্দী চলমান ছবির মাধ্যমে যৌন লালসা মেটান। এই মর্মে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকেও চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রধানশিক্ষক। উল্টে শিক্ষিকার বিরুদ্ধেই আউশগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

স্কুলের টিচার্স রুমে সিসি ক্যামেরা বসানোর ঘটনা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রীকে লিখিত চিঠিতে শিক্ষিকা জানান, “উনি বহুদিন ধরে আমায় নানা কুপ্রস্তাব দিতেন। তাতে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতি পদে হেনস্থা করতেন। যার ফলে আমি সবসময় আতঙ্কে থাকি।”

VoiceBharat News thumbnail gettyimages 1279113494 sixteen nine
চাকুরিক্ষেত্রে বাধা এবং বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন ওই শিক্ষিকা। জানিয়েছেন, ১৭ বছরের প্রতিষ্ঠান এই স্কুলটাকে ভালোবাসেন বলেই কম মাইনে সত্ত্বেও তিনি চাকরি করে চলেছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের ব্যবহারে সুস্থভাবে চাকরি করতে পারছেননা তিনি। এমনকি শুধু স্কুলে নয়, একটি অনুষ্ঠানেও তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক, এমন দাবিই করেই তিনি বলেছেন,”শুধুমাত্র বেলা সাড়ে তিনটের সময় একটি ক্লাস দেন এবং সাড়ে চারটে পর্যন্ত বসিয়ে রাখেন। এমনকি স্টাফরুমেও সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে সেই ক্যামেরার মাধ্যমে আমাকে দেখতে থাকেন এবং ওইভাবে নিজের যৌন লালসা মেটান।”

অপরপক্ষে, শিক্ষিকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে মঙ্গলবার আউশগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করে সংবাদ মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, “আমার বিরুদ্ধে শিক্ষিকা যেসব অভিযোগ করেছেন তা পুরোপুরি মিথ্যা, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কর্মচারীদের স্বাক্ষর সমেত সমর্থন নিয়েই একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সকলের সাথেই খারাপ ব্যবহার করেন উনি। যখন তখন ছুটি নেন। এসবের প্রতিবাদ করাতেই উনি আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।” প্রধান শিক্ষককে ফাঁসানোর চেষ্টাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা প্রসঙ্গও তুলেছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষককে স্কুলের অন্যান্য স্টাফদের সমর্থনের ফলেই সিসিটিভি বিতর্ক এখানেই আপাতত চাপা পড়ে যায়। অপমান ও হেনস্থার অভিযোগও কি তাহলে প্রধান শিক্ষককে ফাঁসানোর জন্যেই! সংশয় থেকেই যায়।

 

 

 

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com