কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

রক্তমাংসে গড়া ইন্টারনেট, রেলপথের মানচিত্র তাঁর নখদর্পণে : সবাই ডাকেন ‘রেলকাকু’

Current India Features

তিনি করিমপুরের বাসিন্দা। এই ইন্টারনেটের যুগেও এলাকাবাসীরা রেলপথ সম্পর্কে জানতে তাঁর কাছেই ছুটে আসেন। নাম সাধন মন্ডল। কিন্তু তাবৎ এলাকায় তিনি পরিচিত ‘রেলকাকু’ নামে।


করিমপুরের নাটনা গ্রামের অধিবাসী ৬৮ বছরের প্রবীন সাধন মন্ডলের এই আশ্চর্য ক্ষমতার পেছনে লুকিয়ে এক অজানা কাহিনী। নিজে মুখেই এক সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন সেই কথা।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

“এককালে সরকারি চাকরি পাবার জন্য বিস্তর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু হয়নি। শেষপর্যন্ত টিভি রেডিও ইত্যাদি মেরামতের কাজ বেছে নিলাম। এরপর হঠাৎ ২০০৮ সালে এক প্রতিবেশি তাঁর বাবার চিকিৎসার জন্য বাইরে কোনো ভালো হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা ও প্ল্যান তৈরি করে দিতে আমায় অনুরোধ করেন। সঙ্গে আমাকেও যেতে বলেন। সেই থেকে আমার রেলযাত্রা শুরু”।


ঘটনাচক্রে উল্লিখিত ওই ভদ্রলোক চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। আর তারপর থেকে এলাকার কারুর কিছু চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগাযোগ দরকার হলেই সাধনবাবুর ডাক পড়ত। তিনিও গাইডের ভূমিকায় চটপট নেমে পড়তেন। এই সূত্রেই একে একে ভেলোর, চেন্নাই, দিল্লী, মুম্বই সব চষে ফেলেন। একাধিকবার রোগীদের সঙ্গে করে এত জায়গায় ঘুরে বেড়াবার ফলে ভারতবর্ষের রেলসংক্রান্ত এক চলমান এনসাইক্লোপিডিয়া হয়ে পড়লেন তিনি আশ্চর্য ভাবে!


শুধু পথের বিবরণ নয়, কোন স্টেশন থেকে কোন ট্রেন কখন ছাড়বে, কোন ট্রেনে গেলে দ্রুত মিলবে চিকিৎসার সমাধান, কোন ট্রেনে খাবার ভালো দেয় — সবকিছুই নির্ভুলভাবে কন্ঠস্থ এই মানুষটার। যাঁর কাছে গুগুল-ও হার মেনে যায়। সবাই জানে ‘রেলকাকুর’ কাছে গেলেই উনি সব বলে দেবেন।


সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হল, এই মানুষটার নিজের এলাকায় কোনও রেলপথ নেই! তুখোড় স্মৃতিশক্তিধারী, আর এত ভালো ইনটিউশন যাঁর — তিনি বলছেন,

“আমাদের এলাকায় রেলপথ নেই। তাই ছোট থেকেই রেলগাড়ি সম্পর্কে খুব কৌতুহল ছিল। ওই আগ্রহ থেকেই যাতায়াতের সময় রেলগাড়ির নানান বিষয় মুখস্থ করে ফেলি”।
জীবন্ত বিস্ময় বুঝি একেই বলে।