কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

শুভেন্দুর ভবিষ্যবাণী মিললনা: গ্রেপ্তার হলেননা শেখ সুফিয়ান

Current India Features Politics

পটাপট বলছেন আর টপাটপ সকলকে ধরে ফেলছে সিবিআই। এভাবেই মিলে যাচ্ছিল শুভেন্দু অধিকারীর ভবিষ্যত বাণী। বঙ্গ বিজেপির ধ্বজাধারী ‘(বি)ভীষণ’ নেতা শুভেন্দুর এই অলৌকিক ক্ষমতায় রীতিমতো অবাক হচ্ছিল তৃণমূল শিবির। তবে বিশেষ একটি ‘কবচ’ ধারণ করে একজন নেতা ঠিক ফসকে গেলেন! কী সেই কবচ ? বলা হবে। তার আগে শুভেন্দুর এই অলৌকিক ক্ষমতাটা একটু বোঝা দরকার।


বঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুনাল ঘোষই একমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর এই ক্ষমতা উপলব্ধি করে বলেছিলেন, “ইডি সিবিআই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে বিজেপি নিজের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে”।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304


মহালয়ার ঠিক আগে শুভেন্দুর ওই ভবিষ্যবাণী সত্য প্রমাণ করে যখন ১১ জন তৃণমূল নেতাকে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ মামলায় জেলে ঢোকানো হল, তখন রাজ্য তৃণমূল আরও নিশ্চিত হলেন। রাজনৈতিক মহলও ভাবল, এ কি ভেল্কি রে বাবা! তার কিছুদিন পরেই আবার ভবিষ্যবাণী –“এগারোটা গুন্ডাকে জেলে ভরেছি। জাহাজ বাড়ির মালিক সহ আরও এগারোটা বাইরে ছাড়া রয়েছে। সব কটাকে ভেতরে ঢোকাবো”।

সেদিন থেকেই প্রমাদ গোণা শুরু। উল্লেখ্য, এই জাহাজ বাড়ির মালিক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান। এবার নিশ্চয়ই তিনি অ্যারেস্ট হবেন। অলৌকিক শুভেন্দুর বাণী সত্য হবে অক্ষরে অক্ষরে।


মিলতেই যাচ্ছিল। কিন্তু কি এক ফুস্ মন্তর বলে ফস্ করে ফসকে গেলেন শেখ সুফিয়ান। সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো প্রয়োজন, না কোনো ম্যাজিক বা মন্ত্রবলে নয়, আইনবিধি অনুযায়ী শেখ সুফিয়ান আপাতত জেলের বাইরেই থাকছেন। ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’-র তদন্তেই শেখ সুফিয়ানকে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল সিবিআই। মমতা ব্যানার্জীর নির্বাচনী এজেন্ট সুফিয়ানও আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন উচ্চ আদালতে।

বুধবার ছিল শুনানির দিন। এই শুনানির প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটরের বয়ান অনুযায়ী জানা যায় তদন্তকারী অফিসাররা সবাই নন্দীগ্রামে আছেন, এবং ভোট পরবর্তী হিংসার তদন্ত করছেন। এই মামলার শুনানি অর্থাৎ ৯ নভেম্বরের আগে শেখ সুফিয়ানকে গ্রেপ্তার করা যাবেনা। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং রবীন্দ্রনাথ সামন্তর ডিভিশন বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দান করেছেন। সুতরাং ৯ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁকে ছুঁতে পারবেনা সিবিআই।


হাইকোর্টের এই রায় প্রসঙ্গে শেখ সুফিয়ান প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “ভোট পরবর্তী হিংসার নামে আসলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতাদের বিপাকে ফেলার চক্রান্ত করছে। শুভেন্দু অধিকারী যাদের যাদের নাম বলছেন, তাদেরকেই ধরে ধরে জেলে ঢোকাচ্ছে সিবিআই। হাইকোর্টের বিচারপতিরা আমার আবেদন শুনেছেন, এবং এখনই আমায় গ্রেপ্তার করা যাবেনা বলেই রায় দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে আমি খুব খুশি”।


কিন্তু ৯ তারিখের পর কী হবে? আদালতের এই ‘রক্ষাকবচ’ দিয়ে কি শেষরক্ষা হবে? এই প্রশ্নটা থেকে যাচ্ছেই। কারণ গুণীজনদের অনেকেই বলছেন– শুভেন্দুর ভবিষ্যত বাণী কখনো মিথ্যে হয়না!