কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

হলিউডে হ্যালোইন, আর আমাদের ভূত চতুর্দশী : মৃতদের মর্ত্যে আগমন

Current India Entertainment Features International

দুটি উৎসব একেবারেই ভিন্ন। যদিও আপাতদৃষ্টিতে হ্যালোইন ডে আর ভূত চতুর্দশী এই দুই উৎসবের সময় খুব কাছাকাছি আর আচার পালনে কিছুটা হলেও মিল চোখে পড়ে। সবচেয়ে বড় মিল হল — দুটি উৎসবেই ‘তেনাদের’, অর্থাৎ –জীবনের ওইপারে যারা থাকেন, তাদের আবির্ভাব হয়, এমনটাই লৌকিক বিশ্বাস। দুইয়ের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট অবশ্য আলাদা।


ত্রৈলোক্যনাথের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। “জল জমে যেমন মেঘ হয়, অন্ধকার জমেই তেমন ভূত হয়”। ভূতের এমন সর্বজনীন সংজ্ঞা বাংলায় একমাত্র তিনিই দিতে পেরেছিলেন। আর এই অন্ধকার কেন্দ্র করেই ইউরোপ-আমেরিকায় জমে ওঠে ‘হ্যালোইন’ এবং বঙ্গে জমে ওঠে ‘ভূত চতুর্দশী’। যদিও বর্তমান উৎসবের ট্রেন্ড অনুযায়ী বড়দিন, বা গুড ফ্রাইডের মতো ‘হ্যালোইন ডে’-ও বাঙালি তথা ভারতীয় উদযাপনে স্থান নিয়ে ফেলেছে। খুব সংক্ষেপে দুই উদযাপনের প্রেক্ষাপটে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304


আমেরিকা-ইউরোপে হ্যালোইন প্রায় ২০০০ বছরের পুরোনো। অক্টোবরের শেষ এবং নভেম্বরের শুরুর মাঝরাতের সন্ধিক্ষণটাই হ্যালোইনের সময় কাল। একদিকে হ্যালোইন অর্থ — পবিত্র সন্ধ্যা। ওইদিন মৃত সাধুসন্তদের প্রতি নানাভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হত। পাশাপাশি হ্যালোইন এক অন্ধকার ও আলোর সন্ধির উৎসব। পাশ্চাত্যের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই এই রীতি রেওয়াজ প্রচলিত।

২০০০ বছর আগে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং নর্থ ফ্রান্সে ১-লা নভেম্বর দিনটিকেই নববর্ষ ধরা হত। কেননা এই সময়টা ছিল গ্রীষ্মের শেষ ও শীত শুরুর ক্ষণ। শীত ছিল তাঁদের কাছে শুষ্ক, কঠোর ও অন্ধকারের প্রতীক। তাই অক্টোবরের শেষ দিনটিকে খারাপ বলে বিবেচনা করা হত। আর এই অন্ধকার থেকেই বিশ্বাস জন্মায় — অক্টোবরের শেষ রাতে সমস্ত অতৃপ্ত আত্মারা পৃথিবীতে নেমে আসে, এবং এক ডাইনি তার উড়ন্ত ঝাড়নে চেপে সারা আকাশ ঘুরে বেড়ায়। সে ডাইনির মুখোমুখি হলেই বিপদ। তাই নিজেরাই ভূতের সাজসজ্জায় সেজে, ভূতুড়ে মুখোশ পড়ে রাত কাটানো যাতে ভুলেও সে ডাইনির মুখোমুখি না হতে হয়।

এক আশ্চর্য বিশ্বাস ঘিরে সম্মিলিত উদযাপন। কুমড়ো খোদাই করে ভূতুড়ে মুখ বানিয়ে তার মধ্যে আলো জ্বালিয়ে সাজানো, খাওয়া দাওয়া, সারারাত হুল্লোড়ে মেতে ওঠার এই উদযাপনই হ্যালোইন। অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর দিনটাই হ্যালোইন ডে।


ডেট ক্যালেন্ডার অনুযাী এই উৎসবের কিছুদিন পরেই, অর্থাৎ নভেম্বরে বাঙালিদের ভূতচতুর্দশী পালিত হলেও, এর নির্দিষ্ট দিন ক্ষণে রকমফের হয়। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় উদযাপিত হয় কালিপূজো। ঠিক তার আগের দিনটাকেই ধরা হয় ভূত চতুর্দশী। এর প্রেক্ষাপটেও আছে অন্ধকার।

লৌকিক কাহিনীও খুঁজলে পাওয়া যায়। মহাভারতের এক আখ্যান অনুযায়ী কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ১৬ বছর পর ব্যাসদেব ভাগীরথীর জলে দাঁড়িয়ে মৃত যোদ্ধাদের আহ্বান করেছিলেন। গভীর রাতে দ্রোণ, কর্ণ, অর্জুন, অভিমন্যু সকল মৃত যোদ্ধারাই নেমে আসেন সেই ডাকে। আবার সকাল হলে ফিরে যান।

সরাসরি সম্পর্কিত না হলেও ভূত চতুর্দশী অর্থাৎ অমাবস্যার আগের রাতে শিবভক্ত বলি অনুচর ভূতপ্রেত নিয়ে পূজো পেতে মর্ত্যভূমিতে নেমে আসেন এমনই বিশ্বাস প্রচলিত। তাই চতুর্দশীর রাতে ১৪ টা মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোয় চতুর্দিক সাজানো, চোদ্দশাক খাওয়ার রীতির প্রচলন রয়েছে বাঙালীদের উদযাপনে।


তবে, পাশ্চাত্য হোক বা ভারত, বঙ্গদেশই হোক কিম্বা প্রাচীন মায়াসভ্যতা — সবার মধ্যেই বছরের এক বিশেষ দিনে মৃত আত্মাদের মর্ত্যে আগমনের কাহিনী প্রচলিত আছে, এবং তাকে ঘিরেই একটি রাতের এই বিশেষ উদযাপন।