কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304

হাথরস কান্ড ভুলে রাজ্যের আদর্শ আইনশৃঙ্খলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ আদিত্যনাথ যোগী

Current India Features Politics

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি খোলাখুলি ঘোষণা করলেন দল যদি নির্দেশ দেয় তিনি নির্বাচন লড়তে রাজি। আর সেই প্রসঙ্গেই গত বিধানসভার প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসায় মেতে উঠলেন যোগী।
২০২২ এর নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে যোগীর নেতৃত্বেই লড়ছে বিজেপি একথা আগেই বলে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্বতন্ত্র দেব সিংহ। এরপরই সম্মতি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল বললে আমি যেকোনও জায়গা থেকে নির্বাচন লড়তে রাজি। দলের নিজস্ব বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে কোথা থেকে আমি লড়ব”।


একথা মুক্তকন্ঠে জানিয়ে ২০১৭-য় জেতার পর থেকে রাজ্য সরকারের অতুলনীয় ভূমিকা বর্ণনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার তাঁর নেতৃত্বে সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছে এমনই দাবি করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। যোগীজি বলেন, “আগে লোকে মনে করত উত্তরপ্রদেশ খানাখন্দে ভরা। এখন সেই রাস্তাই এক্সপ্রেস ওয়েতে পরিণত হয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার কারণে উত্তরপ্রদেশ বিদেশি লগ্নির জন্যেও উপযুক্ত হয়ে উঠেছে “।

কম মুল্যে আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন দিন অথবা খবরের মাধ্যমে প্রচার করুন আপনার ব্যাবসা, বিস্তারিত জানতে WhtasApp / Call 8585047304


এই চার বছরে কোথাও কোনোরকম সাম্প্রদায়িক অশান্তি ঘটেনি, রাজ্যের সকল ধর্মের মানুষ তাঁদের উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে পেরেছেন — তার এক সে এক উদাহরণ তুলে যোগীরাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি খুব ভালো বলেই প্রশংসা করেছেন তিনি।
কিন্তু এই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বলতে গিয়ে তলিয়ে গেল কয়েকটি বিষয়। কোভিড চলাকালীন বিশৃঙ্খল অবস্থার প্রসঙ্গ এড়ালেন যোগীজি। সৎকার ছাড়াই অসংখ্য মরদেহ গঙ্গায় ভাসানোর স্মৃতি এখনও যে বহু মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি! সেটা বোধহয় আদিত্যনাথের খেয়াল নেই।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী সম্পূর্ণ ভুলে গেলেন হাথরসের নির্মম ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ! উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে যে দাবি যোগীজি করছেন তার দিকে সরাসরি আঙুল তুলছে হাথরস কান্ড, যে ঘটনায় সেই সময় যোগীজি এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ‘প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছিলেন।

সেই প্রতিশ্রুতি ওই রাজ্যের ‘উন্নত মানের পুলিশি ব্যবস্থার’ দ্বারাই বানের জলে ভেসে গেছে। যেখানে ১৯ বছর বয়সী একটি ‘দলিত’ মেয়েকে নৃশংস নির্যাতন করে হত্যা করা হয়, সেই ঘটনা কি ‘সাম্প্রদায়িক শান্তির’ বার্তা বহন করে?


উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশের হাথরস জেলায় ৪ জন উচ্চ বর্ণের পুরুষ একটি ১৯ বছরের দলিত শ্রেণীর মেয়েকে গণধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। মেয়টির নাম ছিল মনীষা। ১৪ দিন অসহ্য কষ্ট ভোগ করে মেয়েটি হাসপাতালে মারা যান। পরে জানানো হয় মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের চিহ্ন মেলেনি, এবং মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ আচমকাই এক অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে গিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়!


‘শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষাকারী উত্তরপ্রদেশের পুলিশের’ উল্টে নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি, অস্বচ্ছ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট, মিডিয়ার কন্ঠরোধ, মনীষার পরিবারকে একঘরে করে রেখে রীতিমতো নজরদারি! এগুলোই কি উন্নতমানের আইনশৃঙ্খলার উদাহরণ? প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজছেন কিছু মানুষ।


যোগীজির এদিনের আইনশৃঙ্খলার অকুন্ঠ প্রশংসা আরো একবার সেই দৃশ্যগুলোই মনে করিয়ে দিয়ে গেল।