1634657635_new-project-2021-10-19t210224-914

চারিদিকে যখন অশান্তির বাতাবরণ, বাংলাদেশের একটি মাত্র বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব তৈরি করছেন হিন্দু-মুসলিম মৌলবাদীরা, ঠিক তখনই বর্ধমানে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন সেখানকার হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ।


বর্ধমানের আলুডাঙায় ঘটল এই ঘটনা। একদল মুসলিম প্রতিবেশি লক্ষীপূজোর উপকরণ তুলে দিলেন হিন্দু পরিবারের হাতে। এই জ্বলন্ত সময়ে এমন ঘটনা অন্তত কিছু মানুষের নজর কেড়েছে।


কুমিল্লায় দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিবাদে নেমেছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা। ভারতেও প্রতিবাদ মিছিলে নেমে পড়েছেন হিন্দুধর্মের ধ্বজাধারীরা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ইমাম সংগঠন একবাক্যে বলেছেন দোষীদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। তবু সংঘাত সহজে মেটার নয়।

মূর্তি ভেঙে ধর্মে আঘাত অবশ্যই দোষের। কিন্তু প্রশ্ন হল –যে বা যারা হনুমান মূর্তির পায়ে কোরান রাখলেন (অথবা ছবি এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে) সংঘাত বাধালেন তারা কি দোষী নয়? এই প্রশ্নটা অন্তত এখানকার চরমপন্থী হিন্দুরা একবারো করেছেন কি? বরং সেই দ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়িয়ে দাঙ্গা বাধাতেই উদ্যত তারা। মানবাধিকারের সপক্ষে কিছু মানুষ এমনটাই মনে করছেন।


হিংসা দলাদলির এই ধর্ম ধর্ম খেলার পাশাপাশি বর্ধমানের ঘটনা যেকোনো স্পর্শকাতর মনেই দাগ রেখে যায়। মুসলিম ভাইয়েদের কাছ থেকে লক্ষীপূজোর সামগ্রী উপহার পেয়ে খুবই খুশি হিন্দু পরিবারের গৃহীনি মৌসুমি মন্ডল, সুমিত্রা বাগ। তাঁরা বলছেন, “বারো মাস পাশাপাশি বাস করি আমরা। একের উৎসব অন্যের কাছেও তো আনন্দের!”


অপরদিকে যারা এই উপহার দিয়ে উদাহরণ রাখলেন তাঁদেরই অন্যতম একজন ইফতিকার আহমেদ। ইফতিকার খুব সাবলীল ভাবে বললেন, “এমনটাই হয়ে আসছে আমাদের এলাকায়। ইদে হিন্দু ভাইয়েরা আমাদের লাচ্চা, শিমুই, ফল উপহার দেন। আমরাও তাই পুজো উপলক্ষে কিছু সামগ্রী ওদের হাতে তুলে দিলাম। খুব আনন্দ পেয়েছি এটা করে”।


বর্ধমানের হিন্দু-মুসলিম ভাইবোনেদের ভাগ করে নেওয়া এই আনন্দ সত্যি এই সময়ে ইতিহাসের অলিখিত পাতার হৃদয়ে ধরা থাকল।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com