peoplesreporter_2021-07_2885404a-ffca-4031-a380-ede12f7b4c17_yogi

যোগী আদিত্যনাথের ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা এপর্যন্ত তাবৎ ভারতীয় ঐতিহাসিকদের হারিয়ে দিয়েছে।যোগীজির ভাষণ শুনে কেউ কিচ্ছু মেলাতে পারছেননা যে! সম্প্রতি বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন ,”আলেকজান্ডার চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন”।


এই বক্তব্য শুনে ঐতিহাসিক তো দূর, সাধারণ ইতিহাসের পড়ুয়াদের মাথা চুলকে চুল ছিঁড়ে তুলে ফেলবার উপক্রম! কেননা সকলেই জানেন — আলেকজান্ডারের মৃত্যুর বহুবছর পরে তাঁর সেনাপতি সেলুকাসকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এবার যোগীজির বর্ণনা সমস্তটাই উল্টেপাল্টে দিয়েছে।


উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন আসন্নপ্রায়। কিছুদিন আগেই আদিত্যনাথ জানিয়েছেন দল চাইলে তিনি নির্বাচন লড়তে রাজি। সেদিনের বক্তব্যে রাজ্যের বিজেপি সরকারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড়াই করলেও, কারুর কাছেই সেটা পুরোপুরি হজম হয়নি। অপরাধ দমনে আইনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা, দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, মহিলাদের অসুরক্ষা, আর গঙ্গার বুকে ভেসে যাওয়া লাশ — এই ছবিগুলো সকলের স্মৃতিতেই ধরা আছে। তাই অ্যাজেন্ডা হিসেবে আর কিছু না পেয়ে পুরোনো ও একমাত্র অস্ত্র হিন্দুত্ববাদের স্তুতিকেই বেছে নিয়েছেন যোগী — বিরোধীদের এমনটাই মত।


হিন্দুত্বের ধ্বজা ওড়ানো যেতেই পারে এতে তো অন্যায়ের কিছু নেই, তবে সেটা করতে গিয়ে ইতিহাসের অধ্যায়কে যেভাবে মনমর্জিমতো উল্টেপাল্টে পেশ করছেন সেটাই হতবাক করে দিচ্ছে। “আলেকজান্ডারকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য হারিয়েছেন” এটা বলার সপক্ষে যুক্তিও তৈরি করে নিয়েছেন আদিত্যনাথ ; তিনি বলছেন , “ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। ইতিহাস চন্দ্রগুপ্তকে নয়, আলেকজান্ডারকে মহান বলে। যিনি চন্দ্রগুপ্তের কাছে হেরে গিয়েছিলেন “।


এ কেমন যুক্তি! আর এর সাপেক্ষে প্রমাণই বা কোথায়? হিন্দুত্বকে বড় করে দেখানোর জন্য আলেকজান্ডারকে চন্দ্রগুপ্তের হাতেই পরাজিত হতে হবে? যা যোগীজির মস্তিস্কপ্রসূত! কারণ, তথ্য বলছে আলেকজান্ডার যখন মারা যান, চন্দ্রগুপ্ত তখন একেবারেই নাবালক ছিলেন। তাহলে এ কেমন ব্যাখ্যা? প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।


উল্লেখ্য, একা যোগী আদিত্যনাথই নন, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রামায়ণ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন, “মৃত্যুশয্যায় শায়িত রাবণের কাছে রামচন্দ্র ভরতে পাঠিয়েছিলেন রাজধর্ম শিখতে”। অথচ রামায়ণ বলছে, রামচন্দ্র লক্ষণকে পাঠিয়েছিলেন।


বিজেপি নেতৃত্বের রামায়ণ সম্পর্কে এই অদ্ভুত জ্ঞান ও ইতিহাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা শুনে ঐতিহাসিকদের ভিরমি খাওয়ার দশা! বিরোধীরা সমালোচনা করবেই, কিন্তু আরএসএসের মহিমা তুলে ধরতে গিয়ে যোগীজির মতো এমন হাস্যাস্পদ যুক্তি দেওয়ার আদৌ কি কোনও প্রয়োজন আছে? রাজনৈতিক মহলের অনেকে এই প্রশ্নই করছেন।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com