IMG_20220519_155136

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অ্যাকাডেমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘কবিতাবিতান’ সংকলন গ্রন্থের জন্য বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। এরপরেই সরব হয়েছে সমালোচক মহল। সেই সুযোগে আসর মাত করতে বিরোধীরাও রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজিয়েছে। সম্প্রতি মমতার বই গ্রন্থাগারে স্থান পাওয়া নিয়ে তেমনই অভেযোগ এনেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তাঁর এই দাবি অস্বীকার করেছেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।


গত সোমবার ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট শেয়ার করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে গ্রন্থাগারের সংখ্যা ২,৪৮০। পুরস্কার প্রাপ্ত কোনও বই প্রতিটি গ্রন্থাগার ন্যূনতম ১০টি কিনতে পারে। পুরস্কার প্রাপ্ত বইটির প্রতি কপির মূল্য ১,২০০ টাকা। ক্রয়মূল্যের উপর ১০ শতাংশ লেখকের প্রাপ্ত রয়্যালটি। শুধুমাত্র গ্রন্থাগারের কেনা বই থেকে লেখকের প্রাপ্ত রয়্যালটি বাবদ মোট অর্থ ২৯ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। একদম আইনি ভাবে অর্জিত সাদা টাকা।”


নিজের বই সরকারি গ্রন্থাগারকে দিয়ে কিনিয়ে এই টাকা কামানোরই চেষ্টা করছেন মমতা! সেই উল্লেখ করেই শুভেন্দু আরো বলেন, “এই টাকা আপনার আমার ট্যাক্সের টাকা থেকে এসেছে, যেহেতু গ্রন্থাগার সরকারি টাকায় বই কেনে। কবিতার নামে একগুচ্ছ প্রলাপ লিখে, সেটাকে পুরস্কার দিয়ে, গ্রন্থাগারগুলিকে দিয়ে আমার আপনার টাকায় এই বই কিনিয়ে সাদা টাকা উপার্জন করা হল আমার আপনার চোখের সামনে। যে বইটি আপনি কেনা তো দূরের কথা, ছুঁয়েও দেখবেন না।” উল্টোদিকে শুভেন্দুর এই দাবি উড়িয়ে দেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

তাঁর বক্তব্য, “গ্রন্থাগার দফতরের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কবিতাবিতান বইটি কেনার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিরোধী দলনেতা যে দাবি করছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাজ্যের সমস্ত গ্রন্থাগারকেই তাঁদের প্রয়োজন মতো বই কেনার স্বাধীনতা দিয়েছে গ্রন্থাগার দফতর। কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নেই। তাই বিরোধী দলনেতা জনমানসে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন অসত্য প্রচার করছেন।”

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com