IMG_20220208_184622

সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা হস্তান্তর হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সংস্থাটি কিনা নিয়েছে টাটা গ্রুপ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েও একটি নির্দিষ্ট শর্তের উল্লেখ করেছেন।


সোমবার লখনৌ সফরে যাওয়ার সময় কলকাতা বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার চুক্তিবদ্ধ (contractual) কর্মীদের সাথে আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাটার বিনিয়োগে সংস্থার উন্নতির ব্যাপারে কেউই দ্বিমত পোষণ করছেননা। কিন্তু একটি ব্যাপারে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে অনেকেরই কপালে, এই মূহুর্তে যারা চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করছেন তাঁদের চাকরির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দেবেনা তো?

এই প্রশ্নই তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে আবেদন করে একটি শর্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “টাটারা এয়ার ইন্ডিয়া কিনেছে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। কিন্তু আমার একটাই শর্ত –কোনও কর্মীর যেন চাকরি না যায়। এত বছর ধরে কোনও কর্মীকে যদি চুক্তিভিত্তিক করে রাখা হয়, সেটা কি তাদের দোষ? এয়ার ইন্ডিয়া টাটাদের বিক্রী করার আগে কেন্দ্রীয় সরকারেরই এই বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।”


এদিকে কলকাতা বিমানবন্দরের এলাকার বিস্তার নিয়েও ফের আলোচনা উঠেছে। কেননা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কিছুদিন আগেই কলকাতায় এসে বলেছিলেন, জমি না পাওয়ার জন্যই বিমানবন্দর বিস্তারের কাজ থমকে আছে। কলকাতা বিমানবন্দরের বিস্তারের জন্য অন্ততপক্ষে ১০০০ একর জমি প্রয়োজন। তারই মধ্যে টাটা গ্রুপকে এয়ার ইন্ডিয়া হস্তান্তর বিষয়টি আরেকবার খুঁচিয়ে তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন, “অণ্ডাল বিমানবন্দরকে কেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হচ্ছেনা? তাহলে তো পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড, বিহারের মানুষজনও উপকৃত হবেন!”

পাশাপাশি জমি প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, “সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মতো জোর করে জমি নিয়ে কিছু করতে দেবনা। বালুরঘাট, মালদহ বিমানবন্দর তো তৈরি আছে। চালু করছেনা কেন?”
বিমানবন্দরের জমি ও টাটার এয়ারইন্ডিয়া প্রসঙ্গে পুরোনো সিঙ্গুর অধ্যায়টিই আরো একবার স্মরণ করিয়ে দিলেন মমতা।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com