VoiceBharat News IMG 20220418 161515

এক আশ্চর্য জোরজুলুম শুরু হয়েছে বারাণসীতে। মসজিদে যেই আজানের ধ্বনি বেজে উঠছে, সাথে সাথেই লাউড স্পিকারে হনুমান চালিশা পড়তে শুরু করে দিচ্ছেন সুধীর সিং নামে এক অধিবাসী। তিনি নিজেকে বিজেপি কর্মী বলেই পরিচয় দিয়েছেন। রোজ নিয়ম করে দিনে চারবার যখনই মসজিদের স্পিকারে আওয়াজ উঠছে, সুধীর সিংও সংস্কৃত শ্লোক আওড়াচ্ছেন! বারাণসীতে এই নিয়েই সম্প্রতি হট্টগোল শুরু হয়েছে।

VoiceBharat News IMG 20220418 161447


দিনকয়েক আগেই মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে মুসলিম সম্প্রদায়ের লাউড স্পিকারে আজান শোনানো নিয়ে বিরোধিতা চরমে উঠেছিল। সেই বিতর্কের আঁচ এবার উস্কে দিলেন বারাণসীর বিজেপি কর্মী সুধীর সিং। তাঁর দাবি, “আগে ঘুম থেকে উঠলেই সংস্কৃত স্তোত্রপাঠ শুনে ঘুম ভাঙত। এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও আজান শুনতে হয়, সকালে উঠেও তাই। বুঝতে পারিনা কোথায় রয়েছি! কাশীতে না কাবায়?” সেকারনেই পুরোনো নিয়ম ফিরিয়ে আনতে চেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান সুধীর সিং। তিনি বলেছেন, “আগের নিয়ম ফিরিয়ে আনতে হবে। দিন শুরু হবে সংস্কৃত শ্লোক দিয়ে, সাথে চলবে হনুমান চালিশা পাঠ। কাশী কাশীই থাকবে, তাকে কখনোই কাবায় পরিণত হতে দেওয়া চলবেনা।”

ভালো প্রস্তাব। তবে সুধীর সিংয়ের এই দাবিতে একটা প্রশ্ন উঠছে, পুরোনো নিয়ম ফিরিয়ে (যা নাকি বদলে যাচ্ছে দাবি!) এনে সংস্কৃত স্তোত্র যিনি বাজাতে চাইছেন তাঁর মূলত আপত্তিটা ঠিক কোথায়? মাইকে আপত্তি! নাকি আজানে?
আদ্যোপান্ত সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন এক ব্যক্তি যিনি বারাণসীর অতীত ইতিহাস সম্পর্কে একেবারে আকাট, যিনি কাশীর হিন্দু-মুসলিম মিলিত সংস্কৃতি সম্পর্কে নিরেট, তেমন একটি লোক শুধুমাত্র আজানের বিরোধিতা করবেন বলে মাইকে সংস্কৃত শ্লোক শুনিয়ে বারাণসীর পরিবেশকে কলুষিত করার মতলবে রয়েছেন কিনা সেই দাবিও সচেতন মহলের একাংশ তুলছেন বৈকি!

VoiceBharat News IMG 20220418 161515
বিজেপি কর্মী ছাড়াও সুধীর সিংয়ের আরেকটি পরিচয় রয়েছে। ইনি ‘শ্রী কাশীবিশ্বনাথ মুক্তি আন্দোলন’-এর সভাপতি। তবে সুধীর সিং যুক্তি দিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে ৬টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। সমস্ত মন্দির এই নিয়ম মানলেও মসজিদগুলো সেই নিয়ম মানেনি।” সুতরাং তাঁরাও এই যুক্তিতে নিয়ম ভঙ্গ করতে চান!

VoiceBharat News images 2022 04 18T161426.162
সুধীর সিংয়ের মতে, “আমরা আজানের কিছুই বুঝিনা তবু আমাদের শুনতে হয়। এবার…” এই আমরা বলতে কাদের বুঝিয়েছেন সুধীর সিং? আজানের মানে কেউ বোঝেনা, আর প্রত্যেকটি মানুষের কানের পর্দা ফেটে যায় এমন সিদ্ধান্তে তিনি পৌঁছলেন কীকরে? তিনি নিজে সংস্কৃত স্তোত্রে পন্ডিতই হয়তোবা! কিন্তু আপামর হিন্দু জনসাধারণ সংস্কৃত স্তোত্র বোঝেন তো? প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com