IMG_20220226_142803

কলকাতাতেই শ্বশুরবাড়ি। দীর্ঘদিনই বাংলাকে আপন করে নিয়েছেন ইউক্রেনের মেয়ে ইরিনা। কিন্তু স্বদেশের প্রতি টানে মোচড় দিয়ে উঠল বুক। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে, শুনেই অস্থির হয়ে উঠেছেন। মনেপ্রাণে যে মেয়েটি আন্তর্জাতিক, সেই মেয়েটির দেশের আকাশ এখন বারুদের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। সুদূর ইউক্রেনের বাড়িতে রয়েছেন বাবা, মা, বৃদ্ধা ঠাকুমা। আর ছোটভাই।

কলকাতা থেকেই ইরিনা খবর পেয়েছেন ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশে ভাইকে যুদ্ধে যেতে হবে। মনখারাপে ভেঙে যাচ্ছে বুক। কলকাতায় থেকেই ইরিনা এক সংবাদ মাধ্যমকে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “এতদূরে বলেই সবসময় যাওয়া হয়না। বছরে দুতিনবার যাই। এখন মনে হচ্ছে ছুটে চলে যাই। কিন্তু উপায় নেই। প্রভু যীশুর কাছে দিনরাত প্রার্থনা করছি।”
ইরিনা আরো জানিয়েছেন, “খ্রিস্টান হলেও আমি বাঙালি ঘরের হিন্দু রীতি রেওয়াজ সব মানি। শাশুড়ি মা লক্ষীর পাঁচালি পড়া শিখিয়েছেন। বারবার পাঁচালি নিয়ে বসে পড়ছি ঠাকুরের আসনের সামনে। যীশু বা মা লক্ষী যেই হোন আমার দেশকে, আমার পরিবারকে রক্ষা করুন।”

স্ত্রীর পাশাপাশি স্বামী সৌরভ দে-ও ইউক্রেনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। তিনি জানিয়েছেন, “গতকাল সারাদিন চেষ্টা করে একবারমাত্র ফোনে যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম।ওখানে কারেন্ট নেই। ফোন, ইন্টারনেট সবই বিঘ্নিত। খাবার দাবারের খুব অভাব। কিচ্ছু পাওয়া যাচ্ছেনা। সরকারের নির্দেশ কেউ কোথাও যেতে পারবেননা। ফলে ওঁদের যে নিজেদের কাছে নিয়ে আসবো সেই উপায়ও নেই।”


২০০৪ সালে ইউক্রেনে ডাক্তারি পড়তে গিয়েই ইরিনার সাথে দমদমের ছেলে সৌরভের আলাপ। সেখান থেকেই সম্পর্ক ও বিয়ে। একসূত্রে গাঁথা পড়েছিল ছ’হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ। চলমান বিপদের পরিস্থিতিতে সূদুর কলকাতায় বসে সকলেই ইউক্রেনের হয়ে প্রার্থনা করছেন। এমনকি ছোট্ট মেয়েটাও মায়ের সাথে হাতজোড় করে বসে পড়ছে ঠাকুরের সামনে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com