IMG_20220308_195845

পাখির চোখ ২০২৪। মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত দলীয় সভায় স্পষ্টতই সেকথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের কুৎসার জবাব দিতে জনসংযোগ এবং মানু‌ষের প্রয়োজনে লাগাতার কাজ করে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করতে বলেন মমতা।


এই জনসংযোগের দুটি ধাপ নির্ধারিত করে মমতা বললেন, “২মে সরকার গঠন করেছিলান আমরা। এই দিন থেকে ২১ জুলাই শহীদ দিবস পর্যন্ত প্রথম দফায়, এরপর শহীদ দিবস থেকে দুর্গোৎসবের আগে পর্যন্ত জনসংযোগ করে যেতে হবে।”
পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী কর্মীদের বারংবার সচেতন করিয়ে দেন, “জিতেছি বলে ঘরে বসে থাকলে চলবেনা। মানুষের জন্য হেঁটে বেড়াতে হবে, এলাকায় গিয়ে কাজ করতে হবে।প্রয়োজনে সাইকেলে বা গরুর গাড়িতে করেও ঘুরতে হবে। নিজেহাতে রেঁধে খেয়ে, দরকার হলে খাটিয়ায় শুতে হবে।”


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, নেতামন্ত্রী হবার সুবাদে বাবুয়ানি করা একেবারেই চলবেনা। কাজ, মানুষের জন্য কাজই শেষ কথা। এরপরই সঠিকভাবে দায়িত্ব বন্টন এবং বিজেপি- বিরোধী দলের ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ২০২৪-কে চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে মনে করে ‘অ-বিজেপি’ দলের জোটবদ্ধতাই এরপরের একমাত্র লক্ষ্য।
বিরোধী বিজেপি শত চক্রান্ত করেও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে ঠেকাতে পারেনি, এদিনের বক্তব্যে সেই বিষয়টাও ছুঁয়ে যান মমতা।

এবার আর শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, মণিপুর, গোয়াতেও শক্তিবৃদ্ধি করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “দিল্লীতে বিকল্প হলে তোরা তো আর থাকবিনা!” অভিভাবক সুলভ ধমকের সুর শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার কথায়। সাম্প্রতিক পুরসভা ভোট প্রসঙ্গে কারচুপি ও দখলদারির অভিযোগ নস্যাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেছেন, “গোটা রাজ্যে ১০ হাজারের বেশি বুথে ভোট হয়েছে। তার মধ্যে সাতটা কিংবা আটটা বুথে সামান্য গন্ডগোল হয়েছে। এর জন্যে বিরোধীরাই দায়ী। চার পাঁচটি বুথের ইভিএম মেশিন ভেঙেছে বিরোধীরা।”

তবে এতসব করেও ফলাফলে শেষপর্যন্ত বিজেপিই “গোহারা হেরেছে” বলেই উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে ২০২৪ সালেও দেশ থেকে বিজেপিকে মুছে ফেলার ঘোষণা করলেন তিনি।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com