IMG_20220522_160130

কেদারনাথ মন্দিরের একটি ভিডিও ঘিরে সম্প্রতি তুমুল শোরগোল উঠল নেটদুনিয়ায়। এক ব্যক্তি তাঁর পোষ্য একটি হাশকি(husky) কুকুরকে সাথে নিয়ে কেদারনাথ মন্দিরে প্রবেশ করায় রীতিমতো হইচই তুলেছে মন্দির কমিটি। এমনকি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।


স্বামী বিবেকানন্দের অমূল্য সেই বাণী –“বহুরূপে সম্মুখে তোমার/ ছাড়ি কোথা খুঁজিছো ঈশ্বর/ জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।” আজ ভারতের একশ্রেণীর ধর্মান্ধরাই ভারতের এই বাণীরই অন্যথা আচরণ করছে। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ কেদারনাথ মন্দিরের ঘটনা। নেটমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার সাথে সাথেই সারা দেশে তোলপাড়। কী ঘটেছিল পূণ্য তীর্থ ধামে?

নয়ডার বাসিন্দা এক যুবক বিকাশ ত্যাগী ভিডিও ভ্লগ করেন। ঘুরে বেড়ানো যেমন তাঁর নেশা, তেমনই যেখানে তিনি এবং তাঁর পরিবার ঘুরতে যান সেখানেই সঙ্গে যায় তাঁর পোষ্য কুকুর নবাব।
কেদার, বদ্রী, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী –চারধাম যাত্রায় এবারেও বিকাশের সাথে নবাব সঙ্গী হয়েছিল। সেখান থেকেই একটি ভিডিও তিনি সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার করেন, যেখানে দেখা যায় পোষ্য নবাবকে সঙ্গে নিয়ে জনপ্রিয় নিয়ে কেদারনাথ মন্দিরে ঘুরছেন ভিডিও ভ্লগার বিকাশ ত্যাগী। আর এখানেই দুটি দৃশ্য নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, কেদারনাথ মন্দিরের পুরোহিত কিন্তু নবাবকে কুকুর বলে তাচ্ছিল্য দেখাননি! উল্টে তিনি আর পাঁচজন ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের মতোই নবাবের কপালে টিকা লাগিয়ে দেন। তাহলে বিতর্ক কিসের? বিতর্ক তুলেছে মন্দির কমিটির একাংশ।


কমিটির দাবি , ‘কেদারনাথ মন্দিরের বাইরে থাকা নন্দী মহারাজের সামনে সেই কুকুরের পা ঠেকানো হচ্ছে।’ পাশাপাশি পুরোহিত কেন সেই কুকুরের কপালে লাল তিলক লাগিয়ে দিয়েছেন? এই নিয়ে অপবিত্রতার অভিযোগ তুলেছে কমিটির কেউ কেউ। এফআইআর দায়ের হয়েছে বিকাশ ত্যাগীর বিরুদ্ধে! এরপরই সেই পর্যটক বিকাশ ত্যাগী দুর্দান্তভাবে নিজের প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিকাশ তাঁর কুকুর নবাবের হয়ে একটি বার্তা লিখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। লেখা হয়েছে, “আমার নাম নবাব, আমার বয়স ৪.৫ বছর। আমি বিগত ৪ বছর ধরে আমার অভিভাবকদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি । কম বয়সেই সব জায়গা ঘুরে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ বয়স বেড়ে গেলে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু, সম্প্রতি আমায় একটি মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে, তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর জন্য আমার অভিভাবকদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিন্তু, আমি জানি তাঁরা এই সমস্যার থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।”


huskyindia0 নামের একটি ইন্সটাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ভিডিও এবং বার্তা শেয়ার হবার পরেই হইচই পড়ে গিয়েছে নেটদুনিয়ায়। মন্দির কমিটির অভিযোগ, ‘কেদারনাথে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। কিন্তু কিছু ইউটিউবার এবং ভ্লগার শুধু ভিডিয়ো করার জন্য এই জায়গার পবিত্রতা নষ্ট করছে। এই মন্দির নিয়ে সকলের মনে বিশেষ ভক্তি রয়েছে। তাই এখানে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যা খুশি করা যায় না।”

বাস্তবিকই নেটনাগরিকরা দ্বিধাবিভক্ত। অনেতের মতে কেদারনাথ মন্দিরের মতো পবিত্র জায়গায় কুকুর নিয়ে যাওয়া মোটেই উচিত কাজ হয়নি। তেমনই একাংশ বলছেন বিকাশ ত্যাগী একটুও ভুল করেননি। আপনাদের মতামত কী?

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com