IMG_20220205_135503

আপনি যদি রেলওয়ে স্টাফ না হন, তবে রাত ১০টার পরের লোকাল ট্রেনগুলোয় আপনি যাত্রা করতে পারবেননা। এসেন্সিয়াল সার্ভিসের সাথে যুক্ত হলে তবু কিছুটা ছাড় পাবেন, তবে সাধারণ যাত্রী হলেই গুনতে হবে ফাইন। এখন অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এসেন্সিয়াল সার্ভিস নির্ধারিত হবে কীভাবে? এখানেই গোলমালটা দেখা দিচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ চলাকালীন আংশিক লকডাউনের সময় থেকেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।


উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ওয়েভের মতো এবার লোকাল ট্রেন সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও, রাত ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়, এখনও তা জারি রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে পরের ট্রেনগুলি নিয়ে। এই বিভ্রান্তি শুধু যাত্রীসাধারণের নয়, মাঝেমধ্যে রেলওয়ের ঘোষকদেরও হচ্ছে। অভ্যাসবশত রাত ১০:৫০ এর রাণাঘাট ‘স্পেশাল’কে রাণাঘাট ‘লোকাল’ বলে ফেলেই পরক্ষণে শুধরে নিচ্ছেন, এমনটা হতেই পারে। কিন্তু রেলওয়ে স্টাফ না হয়েও এই ‘স্টাফ স্পেশাল’ ট্রেনে সফর করতে গিয়ে ধরা পড়লে গুনতে হচ্ছে ফাইন। আর ‘এসেন্সিয়াল’ সার্ভিসের মধ্যে কোন কোন সেক্টরকে রাখা যায় সেবিষয়ে সম্যক ধারণা রেলওয়ে পর্যবেক্ষকদেরও সম্ভবত নেই। অথচ যত শতাংশ ১০ টার পরেও ট্রেনে চড়ছেন তাদেরই সকলেই যে রেলওয়ে স্টাফ নন এটা অজানা নয়। তবু ধরা পড়লে কিংবা স্বেচ্ছায় প্রকাশ করে ফেললে আপনাকে ফাইন দিতে হবে।


প্রসঙ্গত, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি এক ব্যক্তি যিনি কলকাতার বাইরে থেকে ফিরে শিয়ালদা নর্থ সেকশনের ট্রেনে চড়ার আগে আরপিএফ-এর কাছে ট্রেনের নিয়ম সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে যান, এই ব্যক্তিকে ২৫০ টাকা ফাইন দিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়েছে। অথচ লাগেজ সামলে ট্রেনের সিটে বসে তিনি তো অবাক! যাত্রীদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, ‘এখানে সবাই কি রেলের স্টাফ নাকি!’ ঘটনাচক্রে তিনি জানতেননা এমনও হয়। জেনে হয়তো ২৫০ টাকার জন্য আফশোস করছেন!


নিয়ম থাকলে বৈষম্যও থাকবে। তবু আগে থেকে জেনে সচেতন থাকতে তো ক্ষতি নেই! এই ঘটনা কামরায় উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারত। টিকিট না কেটে ভ্রমণের মতোই , সাধারণ যাত্রী হয়ে স্টাফ স্পেশালে (টিকিট কেটেও) ভ্রমণও দণ্ডনীয় অপরাধ। ২৫০ টাকা ফাইনের রসিদ সেই কথাই বলছে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com