IMG_20220529_142438

প্রথমে অভিনেত্রী পল্লবী দের রহস্যজনক মৃত্যু, ১৫ মে গরফার ফ্ল্যাট থেকে মৃতদেহ তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করার পর থেকে যে রহস্যের এখনও কোনো কিনারা হয়নি। তার মধ্যেই আরো ২জন নবাগতা মডেল ও অভিনেত্রীর মর্মান্তিত মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় হলো কলকাতার বিনোদন জগত। বিদিশা দে মজুমদার এবং মঞ্জুষা নিয়োগী, পর পর দুটি রহস্যজনক মৃত্যুর কান্ড। এই ৩ মৃত্যু সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত দিয়েছেন দিদি নাম্বার ওয়ান রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য রূঢ় শোনালেও বাস্তবের মাটিতে পা রেখে চলা যে কত জরুরি সেইদিকেই ইঙ্গিত করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। এই ৩ জন সদ্য কেরিয়ার শুরু করা, অত্যন্ত অত্যন্ত কমবয়েসী অভিনেত্রী ও মডেলের মৃত্যু নিয়ে ঠিক কী বলেছেন রচনা?

images - 2022-05-29T141806.508


প্রথমত এই মৃত্যুগুলির জন্য রচনা বিন্দুমাত্র সহানুভূতি প্রকাশ করেননি। বরং স্ট্রেটকাট ভঙ্গিতে এই মৃত্যুগুলির নেপথ্যে থাকা মনস্তত্ব ব্যাখ্যা করে হঠকারী পদক্ষেপের কঠিন সমালোচনা করেছেন। ওঁদের কেউই যে বাস্তব জীবনটাকে অনুভব, তার কঠোর দিকগুলো দেখতে পায়নি, সেই কথাই উঠে এল রচনার কথায়।

পরিশ্রম না করে শর্টকাট রাস্তায় সিঁড়িভাঙা অঙ্ক টকপে সবপেয়েছির জগতে গা ভাসানো, না চাইতেই সব রেডি পেয়ে যাওয়া, এটাই মূলত তাদের জীবন থেকে পায়ের মাটিকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। রচনার মতে, “এঁরা কেউ এটা বুঝতে চাইছে না যে সাফল্য পাওয়ার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়। প্রত্যেকের জীবনে স্ট্রাগলটা খুব জরুরি। এই স্ট্রাগলটা করতে চাইছে না কেউ। সবটাই চটজলদি চাই। এটাই আসল সমস্যা।”

IMG_20220529_143013
অল্পবয়য়সেই গ্ল্যামার জগতের হাতছানি শুরুর আগেই তাঁদের শেষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই মনে করেন বাংলা, ওড়িশা, ও দক্ষিণী সিনেমা জগতের একনম্বর নায়িকা রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এর পেছনে যে অদম্য স্ট্রাগল ছিল সেই তুলনাই উঠে এসেছে নায়িকার কথায়। আগেকার সময়ের সাথে বর্তমান সময়র তুলনা করে তিনি বলেন,”আমাদের শিকড়টা খুব মজবুত ছিল। এঁদের তা নয়। ক্লাস ১০-১২ এর পরেই মেয়েরা সিরিয়াল করতে চলে আসছে। কিছু কাজ করার পরেই হাতে কাঁচা টাকা এসে যাচ্ছে। ব্যস, ফুর্তি শুরু। এটা তো আর জীবন নয়! সেটা তাঁদের কে বোঝাবে?”

5a8c2cd284829f2e370f83107d050077_original
তবে এর জন্য অভিভাবকদের মোটেও দোষারোপ করতে রাজি নন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দৃঢ় মত, পৃথিবীর কোনও মা-বাবাই সন্তানের খারাপ চাননা। পল্লবী, বিদিশা, মঞ্জুষার যে বাবা মায়ের প্রতি টান ছিলনা এটাই সবচেয়ে বেশি আহত করছে রচনাকে। এটাকে একপ্রকারের স্বার্থপরতাই মনে করছেন তিনি। আর তাই জোরালোভাবেই বলছেন, “ওঁদের মৃত্যুর জন্য আমার একটুও কষ্ট হয়না, কষ্ট হয় ওদের বাবা মায়ের জন্য। তাঁরা তো কোনও দোষ করেননি!”

এই মেয়েগুলো শুধুই কেরিয়ার, গ্ল্যামার, বিলাসী দিনযাপন চিনেছে। জীবনকে ভালোবাসতে শেখেইনি। রচনা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের স্কুল থেকেই গ্রুমিং করানোর পক্ষে মত দেন।
নিজের পারিবারিক জীবনের প্রসঙ্গ তাঁর নিজের ছেলের কথাও উল্লেখ করেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নতুন প্রজন্মের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রচনা প্রশ্ন রাখেন, “কাজ না পেলে গলায় দড়ি দিয়ে ফেলব? একটা ছেলের দু’ বার বিয়ে হয়ে গিয়েছে, তার থার্ড ওয়াইফ হয়ে থাকতে শুরু করব? এসব কী হচ্ছে? এঁদের ভালো করে কাউন্সিলিং করা দরকার।” নাহলে সময় বড় ভয়ঙ্কর দিকে এগোচ্ছে, এমনটাই মনে করছেন তিনি।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com