fa20eb9291476846d1daf1e324cceb9f_original

বিতর্কের সূত্রপাতটা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগীই প্রথম করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরপ্রদেশ সফরকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ ছুঁড়েছিলেন, “বাংলা থেকে উত্তরপ্রদেশে এসে অরাজকতা তৈরি করছেন!” যার ফলে বেশ বোঝা যাচ্ছিল আদিত্যনাথ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। এবার সেই মন্তব্যকে তীর করেই যোগীকে নিশানায় বিঁধলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


মমতা বলেছেন, “আমার বিষয়ে সকলকে সাবধান করে দিচ্ছেন মানেই তিনি কতটা ভীত! সন্ত্রস্ত! উনি নিজেকে যোগী বললেও আসলে যোগী নন, আসলে তিনি ভোগী।”
এদিন মমতার বক্তব্যে উত্তরপ্রদেশের বেশকিছু ঘটনা উঠে আসে। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে এনআরসি নিয়ে যারা আন্দোলন করেছে তাঁদের জরিমানা নেওয়া হয়েছে। ওখানে বিটি বাঁচাও বেটি পড়াওয়ের বদলে বেটি ভাগাও হচ্ছে। মেয়েদের জলন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যেকোনও ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। সবকিছু সরকারের হাতে থাকেনা ঠিকই, কিন্তু সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার কোনওরকম পদক্ষেপ নিচ্ছেনা কেন?”


হাথরস এবং একাধিক ইস্যুর উল্লেখ করে অনেক গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা উত্তরপ্রদেশের মানুষের মনের কথা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তিনি আরো প্রশ্ন করেছেন, “কৃষকরা আন্দোলন করছে, সেখানে মন্ত্রীর ছেলে গিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিল! কৃষক হত্যার কী বিচার। পেয়েছে উত্তরপ্রদেশের মানুষ?”

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই সকল প্রশ্ন একরকম চাপা দেওয়ার ভঙ্গিতেই আদিত্যনাথ যোগী বলেন, “বাংলা থেকে উত্তরপ্রদেশে এসে অরাজকতা তৈরি করছেন। আমি জনতা জনার্দনকে সাবধান করে দিচ্ছি ওঁর বিষয়ে। যে শান্তি, যে সম্মান পেয়েছেন তা শেষ করে দিতে এবার সিঁধ কাটছেন অনেকেই। উত্তরপ্রদেশকে ফের অশান্ত করার চেষ্টা করবেন তাঁরা।”

পাল্টা মমতার বক্তব্য, “অখিলেশের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। পাঞ্জাবি, জাঠ, দলিত, ঠাকুর, ব্রাম্ভণ সকলেই ছিলেন। ওখানে আমি ভোটের প্রচার করতে যাইনি। মানুষ বাঁচানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ গিয়েছিলাম।”
স্পষ্টতই যোগীর আসন টলিয়ে সামনের নির্বাচনে অখিলেশ যাদবের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কামনা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেকারণেই উত্তরপ্রদেশ গিয়েছিলেন জানান তিনি।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com