VoiceBharat News IMG 20220215 123942

কর্ণাটকে হিজাব নিয়ে বিতর্ক যখন চরমে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই বিতর্ক জোরালো করতে হঠাৎ এক নিদান দিয়ে বসেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী। তিনি বলেছেন, “দেশ শরিয়ত নয়, সংবিধানের নিয়ম মেনে চলবে।” আপাতদৃষ্টিতে মন্তব্যটি সোজা ও নির্ভেজাল মনে হলেও, এই কথাটির মধ্যে স্ববিরোধিতা লক্ষ্য করছেন কেউ কেউ।

VoiceBharat News images 2022 02 12T173147.742


উল্লেখ্য, স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাতটা উদুপিতে কিছুদিন আগে আচমকাই শুরু হয়। হিজাব (বোরখা নয়) পরিহিতা মুসলিম মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসার প্রতিবাদে গলায় গেরুয়া স্কার্ফ পরে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভ জানাতে থাকে ছাত্ররা। হিজাব পরা ছাত্রীরা গেটের সামনেই ধর্না দেয়।

VoiceBharat News IMG 20220215 123604

এই বিতর্কের আঁচটাই চরম রূপ নেয় মাণ্ড্য প্রি-ইউনিভার্সিটিতে, যখন এক বোরখা পরিহিতা ছাত্রীকে ঘিরে একদল ছাত্র গলায় লাল গেরুয়া ধর্মীয় উত্তরীয় চড়িয়ে নাগাড়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে উত্তক্ত করে তোলার ভিডিওটি সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েটি একলাই সবার মুখোমুখি জবাব দিতে সচিৎকারে “আল্লাহু আকবর!” ধ্বনি তুলে ক্লাসরুমের দিকে রওনা দেয়।

VoiceBharat News pro 28 1
এখন যদি কারুর মন্তব্য কানে না তুলে, সোজাসুজি ভিডিওটির দিকে লক্ষ্য করা যায়, দেখা যাবে– প্রথমটি যদি ভুল না হয়, দ্বিতীয়টিতেও কোনও ভুল নেই। ‘জয় শ্রীরাম, গেরুয়া স্কার্ফে’ যদি তোমার অধিকার থাকে, তবে ‘বোরখা হিজাবেও আমার অধিকার আছে!’ এই মর্মেই চন্দ্র বসু, জাভেদ আখতার, মালালা ইউসুফজাই সহ

VoiceBharat News malala

একাধিক সমাজকর্মী ও বুদ্ধিজীবিরা মুসলিম মেয়েটির সদর্প ভঙ্গিকে স্বাগত জানায়। এইবারে গেরুয়া শিবির নড়েচড়ে বসে। উত্তরপ্রদেশ থেকে ‘সন্ন্যাসী মুখ্যমন্ত্রী’ নিদান হেঁকেছেন –“দেশটা সংবিধান মেনে চলবে, শরিয়তের নয়।” বলেছেন, “প্রতিটি সংস্থার নিজস্ব ড্রেসকোড প্রণয়নের অধিকার রয়েছে।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় সংবিধানে কি লেখা নেই প্রত্যেকের ধর্মাচরণের মৌলিক অধিকারের কথা? যোগীজি কি সেটা মুছে নতুন করে সংবিধান লিখতে চাইছেন? সারা দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোড সম্পর্কে আদৌ কোনও ধারণা বা রূপরেখা কি ওনার মগজে আছে? আরো প্রশ্ন, এতদিন ধরে কি দেশটা শরিয়তের নিয়ম মেনে চলছিল নাকি?

VoiceBharat News images 2022 02 09T170047.138
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রেসকোড নির্ধারণ? নাকি ধর্মীয় চিহ্নকে বাইরে খুলে আসা? এই চাওয়াতে কোনও বিরোধ নেই। কিন্তু তাই যদি করতে হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই ব্রাহ্মণ ছাত্রকে তার পৈতে, শিখ ছাত্রকে তার পাগড়ি খুলে আসতে হবে– এই যুক্তিতে ভুল কোথায়? আরো একটি বার্তা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে চাইছেন জনসাধারণের একাংশ। যোগী আদিত্যনাথ দয়া করে একবার আয়নার সামনে দাঁড়ান। দেখুন তো ওনার নিজস্ব ড্রেসকোডটা কী রয়েছে! এবার সংবিধানের সাথে মেলান! সেখানে কি রাজনীতিতে ধর্ম ঢোকাবার অনুমতি দেওয়া রয়েছে? যদি নাই থাকে তাহলে বোকা মানুষজন মাথা চুলকে আপনাকে বোকার মতোই প্রশ্ন করবে ‘আচ্ছা যোগীজি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর ড্রেসকোড তাহলে নির্ধারিত করে দিল কে?’

VoiceBharat News IMG 20220212 143505
একজন মূর্তিমান ধর্মের ধ্বজাবহনকারী ব্যক্তি যখন রাজনীতির মঞ্চে এসে সংবিধান নিয়ে বক্তৃতা দিতে শুরু করেন, তখন সংবিধানও মুখ টিপে হাসতে থাকে — সাধারণ মানুষ না বুঝলেও, দেশের সচেতন মহলের একাংশ সেটা বোঝেন বলেই সম্ভবত জাভেদ আখতার বলেছেন, “আমি বোরখা সমর্থন করিনা, কিন্তু প্রতিবাদী মুসলিম মেয়েটিকে সমর্থন করছি।”

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com