IMG_20220524_154035

‘হিন্দু না ওরা মুসলিম, ওই জিজ্ঞাসে কোনজন/ কান্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা -র’।
উক্তিটি এক বাঙালি কবির। আজ তাঁর জন্মদিবসে কিছু প্রশ্ন করা জরুরি হয়ে উঠেছে। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত যে সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের পরিবেশ ঘনিয়ে তোলা হচ্ছে, কিছুটা হয়তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই; তার মূলে সত্যিই কোন সম্প্রদায় কাদের সম্পর্কে কী চিন্তা পোষণ করছেন তার খবর কি আদৌ কেউ রাখার প্রয়োজন বোধ করছেন?


প্রথমে তাজমহলের বন্ধ ঘর নিয়ে বিতর্ক, তারপরে জ্ঞানবাপী মসজিদে শিবলিঙ্গ, মতান্তরে ঝর্ণা বা ফোয়ারা উদ্ধার, ঠিক তারপরেই জামে মসজিদ ঘিরে হিন্দুমন্দির সংলগ্ন বিতর্ক। যেন চেইনসিস্টেমে চলেছে। কী বলছেন সেই চত্বরের মুসলিমরা!


১৪ বছর ধরে গাড়ির পার্টস বিক্রেতা মহম্মদ আলি হিন্দুদের গালাগাল করেননি, বরং গোটা বিষয়টিকেই  রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে আখ্যায়িত  করেছেন। তাঁর মতে, “১৯৯১ সালে যখন ধর্মীয় উপাসনালয় নিয়ে আইন করা হয়েছে, তখন এমন জরিপের কী দরকার? তাহলে আইন করা উচিত হয়নি! আদালত নিজেই আইনের বিরুদ্ধে কাজ করছে।”

আরো এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রোমি স্পষ্টতই মতামত দিয়েছেন, “দেশে মসজিদ বা মন্দির নয়, চাকরি ও ব্যবসা দরকার। সরকার তার ত্রুটি আড়াল করার জন্য এ ধরনের ইস্যু তৈরি করছে। মূল্যবৃদ্ধি থেকে জনসাধারণের দৃষ্টি সরানোই এর উদ্দেশ্য। সরকার হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”


এই বক্তব্যের পরেও কি সংশয় থাকে! না হিন্দু না মুসলিম, কোনও সম্প্রদায়ই বিভেদ চায়না! যদি সংশয় থাকে তাহলে ৩০ বছরের মোটর মেকানিক হেপাজত-উল-আলমের বক্তব্যটি পড়ুন।

তাঁর বক্তব্য, “কাশীর প্রতিটি কণায় শঙ্কর আছে। বলা হয়, শঙ্করের ত্রিশূলে সমগ্র বিশ্ব বসতি। এটা সম্প্রীতির বিষয়। গোটা বিশ্ব এটা শঙ্কর জির। এখন এখানে অহেতুক অশান্তি তৈরি হচ্ছে।”


বেনারস বা বারাণসীর মূলগত ঐতিহ্যকে ইরেজার ঘষে মুছে ফেলার যে চক্রান্ত চলেছে, ঐতিহাসিকরা তার ভুরি ভুরি উদাহরণ দিয়ে কুচক্রীদের কুপোকাত করে দিতে পারেন। কিন্তু যে বিদ্বেষ মনের ভেতরে প্রোথিত, তার উপশম কে করবে? সেটাই প্রশ্ন।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com