anish-khan

আমতার অধিবাসী ছাত্রনেতা আনিসের খুন নিয়ে রহস্য ক্রমেই দানা বাঁধতে শুরু করেছে। গতরাতে জোর করে ঢুকে তাঁদেরই তিনতলা বাড়ির ছাদ থেকে আনিসকে ঠেলে ফেলে দেয় পুলিশ! ঘটনাটা কার্যত এইভাবেই ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।


আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আনিস খান। এইমূহুর্তে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার ছাত্র ছিলেন। আনিস ছাত্র রাজনীতির সাথেও যুক্ত ছিলেন সক্রিয়ভাবে। এনআরসি-সিএএ বিলের প্রতিবাদে শুরু থেকেই সরব। বামপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে প্রথম রাজনীতিতে এলেও পরবর্তীকালে আইএসএফ-র সাথে যুক্ত হন। গতরাতে আনিস খানের বাড়িতে আসে পুলিশ। জোর করেই তারা বাড়ির ভেতর ঢুকে সোজা তিনতলায় উঠে যায়।

এরপরই ভারি কিছু ওপর থেকে পড়ার শব্দে চমকে ওঠেন বাড়ির লোক ও পাড়াপড়শিরা! তাঁরা এসে বাড়ির নিচে আনিসের রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পান। বাড়িতে যে চারজন পুলিশ আনিসের খোঁজে বাড়িতে ঢুকেছিল, খুনের অভিযোগ তাদেরই দিকে উঠেছে। অথচ , আমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে জানা যায় গতরাতে কোনও পুলিশ আনিসের বাড়ি যায়নি! এখান থেকেই ঘটনাক্রম অন্যদিকে মোড় নিয়েছে।

তবে কি পুলিশের ছদ্মবেশ ধরেই এসেছিল দুষ্কৃতীরা? আনিস খানের হত্যায় রাজনৈতিক যোগসূত্রের জোরালো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
গোড়া থেকেই এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব ছিলেন আনিস খান। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনেরও অন্যতম সমর্থক ছিলেন তিনি।

এলাকার মানুষ জানান, সম্প্রতি আইএসএফ সংগঠনের বিস্তার করতে সচেষ্ট ছিলেন তিনি। কিছুদিন আগে একটি রক্তদান শিবিরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক রেষারেষিতে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন আনিস, যার ভিত্তিতে থানায় এফআইআরও করেছিলেন এই ছাত্রনেতা। তারপরেও কেন তাঁকে খুন হতে হল? হত্যাকারী পুলিশ নাকি পুলিশের ছদ্মবেশে এসেছিল দুষ্কৃতীরা! রহস্য ক্রমশ বাড়ছে। এইমূহুর্তে ছাত্রনেতা আনিস খানের হত্যার তদন্তের দাবি উঠেছে গোটা রাজ্য জুড়ে। সমস্ত রাজনৈতিক দলই সরব হয়ে উঠেছে। পথে নেমেছেন ছাত্রছাত্রীরা।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com