IMG_20220129_150100

গত বুধবার দেশজুড়ে গর্বের সাথে পালিত হল ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস। কলকাতা, দিল্লী তো বটেই। এমনকি এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল — কাশ্মীরের লালচকে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন। ৩ দশক আগে শেষবার যেখানে সন্ত্রাসবারীদের হুমকিকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তিরঙ্গা তুলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী, ৩৭০ ধারা উঠে যাবার পর সেখানেই মুক্ত চেতনায় তিরঙ্গা উত্তোলন করলেন ইউসুফ শাহ এবং সাহিল বশির ভাট নামের দুই সমাজকর্মী।

 

পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনে বাধা দেওয়া হল গুন্টুরে! খোদ ভারতেই তোলা যাবেনা ভারতের জাতীয় পতাকা? এমন ঘটনারও সাক্ষী রইল এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে অবস্থিত জিন্নাহ টাওয়ারে তুলতে দেওয়া হয়নি জাতীয় পতাকা। এমনকি ওই টাওয়ারে জাতীয় পতাকা তুলতে গেলে পুলিশ দ্বারা লাঞ্ছনার শিকার হন কিছু ব্যক্তি। পতাকা তুলতে যাওয়ার অপরাধে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই খবর। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপ দিয়ে জিন্নাহ টাওয়ারকে রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ল ভারতের প্রশাসনিক কর্মীরা! স্বভাবতই এই ঘটনায় সোচ্চার হয় নেটিজেন মহল। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন রেখেছেন, ‘পাকিস্তানের প্রবক্তা মহম্মদ আলি জিন্নাহ-র নামে এখনও ভারতে এই টাওয়ার সংরক্ষণ করা হচ্ছে কী কারণে?’


ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখে যায়, বিভাজনকারী পাকিস্তান প্রবক্তা মহম্মদ আলি জিন্নাহ-র একজন প্রতিনিধি লিয়াকত খান স্বাধীনতা পূর্ব ভারতে একবার গুন্টুরে এসেছিলেন। সেইসময়ে তেলেগু দেশম পার্টি তাঁকে সম্বর্ধনা জানায়, এবং সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতেই এই জিন্নাহ টাওয়ারের নির্মাণ করা হয়। সেই মিনার বসানো হয়েছে মহাত্মা গান্ধী রোডের বুকে, এবং এই টাওয়ারকে এখনও সযত্নে রক্ষা করে চলেছে গুন্টুরের প্রশাসন!
ভারতের বুকে জাতীয় পতাকা তুলতে বাধা দেওয়ায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com