IMG_20220508_134459

নরেন্দ্র মোদীর ভারত মানেই ডিজিটাল ইন্ডিয়া। ধারণাটি প্রায় বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রয়োগ একটু কমিয়ে আনার কথাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রাধান্য পেল। অতিরিক্ত প্রযুক্তি নির্ভরতা নয়, তার বদলে নরেন্দ্র মোদী বলছেন ‘হাইব্রিড শিক্ষা’-র কথা।


সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সম্পর্কিত এক আলোচনায় সেই শিক্ষার ওপরেই জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘পড়ুয়াদের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি দেখা যাচ্ছে। এটা এড়াবার জন্যই শিক্ষার হাইব্রিড সিস্টেম প্রয়োজন।’

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষার ভিত্তিগত ধারায় ছাত্রছাত্রীদের ফিরিয়ে আনার জন্য, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধারায় প্রবেশের জন্যও কিছু জরুরী সংশোধন খুব প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, ইউজিসি চেয়ারম্যান, এআইসিটিই চেয়ারম্যান, এনসিইআরটির ডিরেক্টর প্রমুখ উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


প্রথাভিত্তিক স্কুল কলেজগুলোয় যেভাবে শিক্ষক-পড়ুয়া মুখোমুখি শিক্ষাগ্রহণ হয় সেটাও থাকবে, অন্যদিকে প্রযুক্তিরও সাহায্য নেওয়া হবে, এই দুইয়ের সমন্বয়কেই বলা হচ্ছে হাইব্রিড লার্নিং বা হাইব্রিড শিক্ষা পদ্ধতি।
এদিন ছোট শিশুদের প্রাথ‌মিক দিনগুলোয় আকর্ষণীয় কলার মাধ্যমে শেখানো, খেলনার সাহায্যে মনোরঞ্জনের মধ্যে দিয়ে বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর বিষয়গুলির গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রান্তিক শিশুদের জন্য অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে সক্রিয় অংশ নিতেও উপদেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এইসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরীক্ষা ও পরীক্ষার রিপোর্ট সংরক্ষণ করা, ছোট ছোট পড়ুয়াদের খেলার মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য , পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার শিক্ষার বিষয়টিও উঠে আসে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের স্কুলগুলির ল্যাবরেটরিতে মাটি পরীক্ষা ও মাটির সুস্থতা ইত্যাদি পরিবেশ ও প্রকৃতি সম্পর্কিত বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


এছাড়াও কিছু ওয়েব পোর্টাল বা অনলাইন ল্যাবরেটরি যেমন ‘স্বয়ম দিক্ষা’,  ‘স্বয়ম প্রভা’র উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, প্রযুক্তির প্রভূত ব্যবহার সত্ত্বেও পরিচিত পদ্ধতি যা এখনকার ভাষায় ‘অফলাইন’ বলে পরিচিত, প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই শিক্ষারও প্রয়োজনীয় দিকটিকেও সমান মূল্যায়ন করতে চেয়েছেন।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com