VoiceBharat News 90856820

সাউথ-ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষ তাঁর অসামান্য কাজের জন্য নজর কেড়ে নিলেন। এই দুপুরে, ঠাঠা রোদ্দুরে তেতে পুড়ে সিগন্যাল ক্রসিংয়ে দিনভর ডিউটি পালন করা যে কী ঝক্কির কাজ, তা খানিকটা সকলেই আন্দাজ করতে পারেন। এই কষ্টকর ডিউটি পালনের পাশাপাশি একটি সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন প্রকাশ ঘোষ। ফুটপাত সংলগ্ন দরিদ্র পরিবারের একটি আট বছরের বাচ্চা ছেলেকে রোজ পড়তে বসান তিনি।

VoiceBharat News IMG 20220415 135326


বালিগঞ্জ আইটিআই ক্রসিংয়ে প্রায়শই তাঁর ডিউটি পড়ে। ওই রাস্তারই ফুটপাতে একটি খাবারের দোকানে ছেলেটির মা কাজ করে। তাঁর সঙ্গেই ছেলেটি আসে। ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষের কথায়, “একদিন আমি জিজ্ঞেস করি ও পড়াশোনা করে কিনা। বলল, কাকু আমি থ্রিতে পড়ি। তারপর আমি জানতে চাই দেখি তো কী জানিস!”

এভাবেই শুরু হয়। তবে প্রকাশবাবু আন্দাজ করেন গত দু’বছরে স্কুলের সাথে দূরত্ব পড়াশোনা থেকেও ছেলেটিকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছে মা। তাঁরও ইচ্ছে ছেলেটা লেখাপড়া শিখুক। তাই কষ্টেসৃষ্টে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু নিয়ম করে পড়াতে বসানো হয়তো সম্ভব নয়। এই দায়িত্বটাই কাঁধে নিয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষ। অবশ্য এটুকু বললে প্রকাশবাবুর পরিচয়টা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

VoiceBharat News pro 12
প্রকাশ ঘোষ এম.এড পাশ করেছেন। একটা সময়ে পার্টটাইম টিচারও ছিলেন একটি স্কুলে। সুতরাং তিনি যে স্বভাবতই শিক্ষক তা আর বলে দিতে হয়না। এক্ষেত্রেও সেই শিক্ষকের সত্ত্বাই ফুটে উঠেছে। আজ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্লাস থ্রি-র এই ছেলেটিকে তিনি ডিউটির ফাঁকেই নিয়মিত পড়িয়ে আসছেন।

প্রকাশ ঘোষ বলেছেন, “শুরুতে হাতের লেখা ঠিক করাতাম। আমার গাড়ির সিটে বসিয়েই লেখা প্র্যাকটিস করাতাতম। এভাবেই যখন যখন সময় পাই অথবা ওর যদি স্কুল ছুটি থাকে ছেলেটাকে ডেকে নিয়ে পড়তে বসাই।” এই চিত্র যাঁরাই দেখেছেন তাঁরাই ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রকাশ ঘোষের অসামান্য কাজের জন্য বাড়তি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com