VoiceBharat News IMG 20220430 190231

সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে নবান্নের এক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে বলেন, গণতন্ত্র রয়েছে বলেই কথায় কথায় এত এফআইআর দায়ের হয়। এর সবগুলোই যে গুরুত্বপূর্ণ নয় সেই ইঙ্গিতই করতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জিডি আর এফআইআরের তফাৎ নির্দেশ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “এফআইআর মানেই কিন্তু এফআইআর নয়। কোনটা জিডি হবে আর কোনটা এফআইআর হবে, সেটা আগে ভালো করে বুঝে তবে পদক্ষেপ নিতে হবে।”

VoiceBharat News IMG 20220430 184732


বগটুই ও হাঁসখালি কান্ডের উল্লেখ এদিন খুব স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। রামপুরহাটের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠীকে উদ্দেশ্য করে ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, “ওখানে একটা খুন হয়েছিল। তারপর তো বদলা নেওয়ার একটা আশঙ্কা ছিলই! কেন আপনারা আগে থেকে সতর্ক হলেননা?”

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বিরোধীদের কাছে অপদস্থ হতে হয়েছে, এদিন স্পষ্ট তার উল্লেখ শোনা যায়। “হাঁসখালিতে ওই ঘটনা ঘটল কীকরে? তোমাদের কি কোনও সোর্স নেই? তোমাদের গাফিলতির জন্য সরকার কেন ভুগবে?” প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নকশাল আন্দোলনের নেতা কানু সান্যালের বাড়ি দখল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “নকশালবাড়িতে কানু সান্যালের বাড়ি দখল করছে জমি মাফিয়ারা। কেন এগুলো করছে? কারা করছে? কানু সান্যাল নকশালের নেতা ছিলেন। আমার সাথে তাঁর মতাদর্শের পার্থক্য ছিল। তার মানে এই নয় যে, তাঁর বাড়ি কেউ দখল করে নেবে!” সরাসরি পুলিশের দিকে আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। “ওখানে জমি মাফিয়ারা একটা ব্রিজ বানিয়ে ফেলল অথচ পুলিশ সুপার, আই সি কেউ কিচ্ছু জানতে পারলনা?”

VoiceBharat News IMG 20220430 184948
রাজ্যের শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে বিন্দুমাত্র আপোস চাননা, নিজের বক্তব্যে সেই মনোভঙ্গীই স্পষ্ট করে রাখতে চেয়েছেন মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি নির্দেশ, “উঁচু পদে বসা মানেই ঘরে বসে যাওয়া নয়। আইসি, ওসিরা যেন মনে রাখেন একটা গোটা এলাকার নিরাপত্তা তাঁদের ওপর নির্ভরশীল।”

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই পুলিশকে কড়া কথা শোনালেও বিরোধী দলগুলির কটাক্ষ অবশ্য এতেও থেমে নেই। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “সবই লোক দেখানো। পুলিশ দিয়ে দল ও সরকার চলে। সেই পুলিশকে এভাবে বকাবকি করলে তো ওদের দলটাই উঠে যাবে!” কটাক্ষ ছুঁড়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও। মুখ্যমন্ত্রীর যেকোনো পদক্ষেপকেই সন্দেহের বাঁকা নজরে বিদ্ধ করছে বিরোধী রাজনৈতিক মহল।

By Partha Roy Chowdhury (কিঞ্জল রায়চৌধুরী)

Partha Roy Chowdhury (Bengali: কিঞ্জল রায়চৌধুরী) is staff journalist VoiceBharat News. email: kinjol@voicebharat.com